ভিজিএফের চাল বিতরণ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণ।   ছবি: আরটিএনএন

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের (VGF) চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়া এবং অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।

অভিযোগ ওঠে প্রাপ্যদের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও, দেওয়া হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি করে। এ ঘটনা ঘটে খোদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ক্ষেতলালের ৫টি ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার ৫৬৮টি পরিবারের জন্য ৬৫.৭৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর এর মধ্যে শুধু বড়তারা ইউনিয়নেই ১ হাজার ৫৭৮টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ আসে ১৫.৭৮০ মেট্রিক টন চাল।

​ডিজিটাল স্কেলে মেপে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেখা যায়, স্কেলের বদলে প্লাস্টিকের বালতি দিয়ে অনুমাননির্ভরভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। 

ওজনের এই কারচুপির সুযোগে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে বসেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। সুবিধাভোগীরা চাল নিয়ে বের হলেই ব্যবসায়ীরা ওজনে কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে মাত্র ২০০ টাকায় পুরো প্যাকেটটি কিনে নিচ্ছেন।

চাল বিতরণস্থলে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং একজন ট্যাগ অফিসারের সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও তাদের কাউকেই সেখানে সক্রিয় পাওয়া যায়নি। কেবল প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নির্দেশনায় গ্রাম পুলিশরা এই চাল বিতরণ করছিলেন।

এ বিষয়ে বড়তারা ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, "চাল কম দেওয়ার অভিযোগ আমি শুনিনি। সকালে ট্যাগ অফিসার এসে ১০ কেজি করে মেপে উদ্বোধন করে গেছেন। আমি অফিশিয়াল কাজে ব্যস্ত, চেয়ারম্যান সাহেবই ওগুলো বিতরণ করছেন।"

​অন্যদিকে, চাল বিতরণস্থলে অনুপস্থিত ট্যাগ অফিসার (উপজেলা পল্লী ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা) সামিউল আল সাবার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "উদ্বোধনের সময় আমি ১০ কেজি করেই মেপে দিয়ে এসেছি। এরপর চেক বিতরণের জন্য অফিসে ফিরেছি। তারা যদি ওজনে কম দিয়ে থাকেন, তবে এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। আমি এখনই সেখানে যাচ্ছি।"

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, "আমাদের এখানে ১,৫৭৮ জনকে চাল দিতে হবে। বালতি দিয়ে ওজন করা হচ্ছে, সবাইকে তো ডিজিটাল স্কেলে মেপে ১০ কেজি করে দেওয়া সম্ভব নয়। কোনোটাতে ২০০-৩০০ গ্রাম কম যেতেই পারে, একটু কমবেশি তো হবেই।"

​বড়তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ভিজিএফ কমিটির সদস্য আব্দুল হালীম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত চালে এক-দেড় কেজি করে কম দেওয়া নেহায়েত অন্যায় ও অমানবিক।"

খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়দুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, "চাল ওজনে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি। সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

​সার্বিক বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমি জেলায় একটি মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।