হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি   ছবি: সংগৃহীত

 

আলোচিত হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বাদ দিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের উপকূলের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ পথ। সম্প্রতি এই অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বেরেলপ্রতি ১০০ ডলারেরও উপরে পৌঁছেছে।

আরাগচি বলেন, প্রণালিটি ‘আমাদের শত্রুদের জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘প্রণালিটি সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। এটি কেবল আমেরিকান ও ইসরায়েলি জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের জন্য বন্ধ, অন্যদের জন্য নয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও চীন ইরানকে বিভিন্ন উপায়ে, সামরিক সহযোগিতাসহ সহায়তা করছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে রাশিয়া ও চীন। আগেও আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ছিল এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও এই দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের ভালো সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, রাশিয়া সম্ভবত ইরানকে “কিছুটা” সহায়তা করছে। তবে তিনি যুক্তি দেন, ‘আমরাও তো ইউক্রেনকে সাহায্য করছি।’

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইরান নিজস্বভাবে তৈরি শাহেদ ড্রোন রাশিয়াকে সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি এই ধরনের ড্রোন উৎপাদনের জন্য রাশিয়ায় কারখানাও স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে ২০২১ সালে ইরান চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সমৃদ্ধ তেলের মজুত চীনের কাছে বিক্রি করা।