দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: আপাতত স্থগিত উদ্ধার অভিযান।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন।   ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। আপাতত উদ্ধার অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আপাতত উদ্ধার কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন করে নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেলে আবারও অভিযান শুরু করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র চালু রয়েছে। স্বজনদের সেখানে অথবা ফায়ার সার্ভিসের কাছে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে ঘটনাস্থলে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকেও মাইকিং করে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য দিতে অনুরোধ জানানো হয়। জানানো হয়, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ৬০ ফুট গভীরে বাসটি ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি উদ্ধার করা হয়। বাসটিতে আনুমানিক ৪০ জন যাত্রী ছিলেন।

উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী থাকলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বাসের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৫ জন শিশু (৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছে।

সব মিলিয়ে মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার করেন ১ জনের মরদেহ।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশ নেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন।