কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ: এইচআরএসএস
কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ: এইচআরএসএস   ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাজারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়ন-এর দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’-মাজারে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ‘কথিত পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) ক্ষুব্ধ জনতার হামলায় নিহত হন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বলা হয়, একটি পূর্ববর্তী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কোরআন অবমাননার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে একদল ক্ষুব্ধ জনতা দরবার শরিফে হামলা চালায়। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং পীর শামিমসহ কয়েকজন আহত হন।

পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিবৃতিতে এইচআরএসএস জানায়, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে হামলা ও একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা মব সহিংসতার জঘন্য উদাহরণ, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্যকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে জনতা নিজেরাই বিচার কার্যকর করার প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এইচআরএসএস জোর দিয়ে বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত মাজার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার মূল উস্কানিদাতা এবং হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, মব সহিংসতা, মাজারে হামলা, বাউলশিল্পীদের ওপর নির্যাতনসহ এ ধরনের অপরাধ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস।