বইমেলার উদ্বোধন করেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন ও বেরোবির ভিসি ড. মো. শওকাত আলী
বইমেলার উদ্বোধন করেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন ও বেরোবির ভিসি ড. মো. শওকাত আলী   ছবি: আরটিএনএন

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিকে ধারণ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘শহিদ আবু সাঈদ বইমেলা’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশে তার বাবা মেলার পরিসর আরও বড় করার দাবি জানান।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা স্মারক মাঠে চার দিনব্যাপী এই বইমেলার উদ্বোধন করেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন।

এই সময় শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আবু সাঈদের নামে মেলা দিয়েছে। এই মেলা যেন আরও ভালো হয়, আরও উন্নত হয়। আরও বড়ভাবে মেলা আয়োজন করা হোক এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে ধন্যবাদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শহিদ আবু সাঈদের অসামান্য অবদানকে স্মরণ করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেয়া আবু সাঈদ শ্রেষ্ঠ বীর হিসেবে বিশ্ব দরবারে আলোচিত নাম।

উপাচার্য আরও বলেন, বইমেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস, সাহিত্য ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আলোচনা সভায় বইমেলার উদ্বোধক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, সভাপতি হিসেবে শহিদ আবু সাঈদ বইমেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সাইফুদ্দিন খালেদ।

বইমেলায় আবু সাঈদ কর্নারসহ মোট ৩৫টি প্রকাশনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল অংশ নিয়েছে। চার দিনব্যাপী এই বইমেলা আগামী ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। বইমেলায় প্রতিদিন আলোচনা অনুষ্ঠান, লেখক আড্ডা, আবৃত্তি ও গ্রন্থ পর্যালোচনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত মেলা চালু থাকবে। তবে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।