আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির চল্লিশা পালন করবে ডাকসু
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির চল্লিশা পালন করবে ডাকসু।   ছবি: সংগৃহীত

রানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির শাহাদাতের ৪০ দিন (চেহলাম) উপলক্ষে সেমিনারের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও আল মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়।

The Political and Religious Leadership of Seyed Ali Khamenei: Theory and Practice in the Islamic Republic of Iran” শীর্ষক এ সেমিনার আগামী ১৩ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানটি মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়াম, সমাজবিজ্ঞান ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রফেসর রহিম জালিলি, যিনি ঢাকায় অবস্থিত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ড. মাহমুদুর রহমান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক।

আয়োজকরা জানান, আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনির শাহাদাতের চল্লিশ দিন অর্থ্যাৎ ‘চেহলাম’ চল্লিশা মূলত তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হবে এছাড়াও তার আদর্শ ও ইরানের রাজনৈতিক-ধর্মীয় নেতৃত্বের তাত্ত্বিক ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানে কম্পাউন্ডে হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

ইরানি সংস্কৃতিতে মৃত্যুর ৪০তম দিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা ‘চেহলাম’ বা চল্লিশা নামে পরিচিত। এই দিনটি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতাবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও এখনো তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

এদিকে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইরানজুড়ে শোকাহত ইরানবাসী। শিয়া মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে ইরানের মানুষ কারো মৃত্যুর ৪০তম দিনটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারে, জনতাকে তেহরানের সেই বাড়ির দিকে মিছিল করে যেতে দেখা গেছে, যেখানে খামেনির উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। এসময়, শোকাহতদের ইরানের পতাকার পাশাপাশি প্রয়াত নেতার ছবি তুলে ধরতেও দেখা গেছে।