কিশোর গ্যাং প্রধান ‘অ্যালেক্স ইমন’
কিশোর গ্যাং প্রধান ‘অ্যালেক্স ইমন’   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী এলাকায় কিশোর গ্যাং প্রধান ‘অ্যালেক্স ইমন’ নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে অপর গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী বেড়িবাঁধ সড়কের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ইমন ‘অ্যালেক্স গ্রুপ’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান ছিলেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাইসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. সাইফ (২৩), তুহিন (২০) ও মো. রাব্বি কাজী (২৫)। তাঁরা সবাই ইমনের প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্য। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, একটি কাটার ও একটি স্টিলের পাত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে শাহরুখ, আরমান, কাইল্লা বাদল, কাল্লু, ইয়াসিন, চিকু শাকিল, ভান্ডারি ইমন, ন্যাকেট শাকিলসহ আরও অনেকে জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইমন বিকেলে বেড়িবাঁধ এলাকায় তার গ্রুপ নিয়ে ঘুরছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের গ্রুপ তাকে আক্রমণ করে। হামলায় তার বাম পা ও হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়েরবাজার এলাকায় ‘অ্যালেক্স ইমন গ্রুপ’ ও ‘আরমান-শাহরুখ গ্রুপ’-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই আজ বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা রয়েছে।

ইমনের বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অ্যালেক্স ইমন রায়েরবাজার এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং চক্রের মূল হোতা ছিলেন। তিনি অ্যালেক্স গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্র হাতে একটি দল আরেকটি দলকে ধাওয়া করছে। এ সময় ইমন পড়ে যান। তার হাতেও ধারালো অস্ত্র ছিল। তবে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালালে তিনি অস্ত্র ফেলে বাঁচার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তার দুই পা, হাঁটু, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, রায়েরবাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অ্যালেক্স ইমন গুরুতর আহত হন এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন।