গ্রাম ও পল্লী অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা বিস্তারে এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সেবার আওতায় গ্রাহকসংখ্যা ইতোমধ্যে আড়াই কোটি ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আমানত, ঋণ ও রেমিট্যান্স বিতরণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যার বড় অংশই গ্রামাঞ্চলকেন্দ্রিক।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়। শুরুর পর থেকেই শাখা ব্যাংকিংয়ের পরিপূরক হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেবাটি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে গ্রাহকসংখ্যা, আমানত ও লেনদেনের পরিধি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অনুমোদনপ্রাপ্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টি ব্যাংক সক্রিয়ভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশজুড়ে ১৫ হাজার ৩২১ জন এজেন্টের তত্ত্বাবধানে ২০ হাজার ৪৮৮টি আউটলেট থেকে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ ৩৯ হাজার ২৯৩টি। এক বছর আগে যা ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার ১০৯টি। অর্থাৎ এক বছরে হিসাব বেড়েছে ১৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে শহরে হিসাব প্রায় ৩৭ লাখ হলেও গ্রামে হিসাবের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ কোটি ১৩ লাখ। নারী হিসাবের সংখ্যাও মোট হিসাবের প্রায় অর্ধেক।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আমানত হিসাব রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের, ৭৬ লাখ ১৩ হাজার ৬২১টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৭টি হিসাব নিয়ে। আর ৫৬ লাখ ১০ হাজার ১৪৫টি হিসাব নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।
গ্রাহক বৃদ্ধির পাশাপাশি আমানত সংগ্রহেও জোরালো অগ্রগতি হয়েছে। গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত আমানত বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর শেষে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যার প্রায় ৮৩ শতাংশই এসেছে গ্রামাঞ্চল থেকে। আমানত সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, যার পরিমাণ ২১ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং তৃতীয় অবস্থানে ব্যাংক এশিয়া।
রেমিট্যান্স বিতরণেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে এই মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা, যা এক বছরে বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। এর মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ৯১৬ কোটি টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। গত এক বছরে এই খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫১ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর শেষে ঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় বিতরণ হয়েছে ২০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণে পুরুষ গ্রাহকদের অংশ ২৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি হাওর ও চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকাতেও এই সেবা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশাধিকার সহজ হয়েছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এমকে/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!