গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আয়, উদ্বৃত্ত ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অবদানের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেবার মান বজায় রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কৌশলের ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি টানা আর্থিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকায়। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। ফলে ওই বছরে উদ্বৃত্ত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের বছর ২০২৪ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। সে বছর উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা।
এর আগের বছরগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। ২০২৩ সালে উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এ ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরই আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে আর্থিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
রাজস্ব আয় বৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল বছর ছিল ২০২৪ সাল। ওই বছরে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আয় বেড়েছিল ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালেও রাজস্ব আয় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে।
আয়ের পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ফলে গত দুই বছরে ব্যয় প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের মধ্যেই রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা দিচ্ছে। ভ্যাট, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে সরকারের কোষাগারে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে কর বাবদ ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, ভ্যাট বাবদ ৩ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
বছরভিত্তিক হিসাবেও কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২১ সালে যেখানে জমা দেওয়া হয়েছিল ১ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, সেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে জমা দেওয়া হয় ১ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৫ সালে কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় মিলিয়ে সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
এমকে/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!