জাতীয় পতাকা শুধু কাপড়ের টুকরা নয়, বরং জাতির পরিচয় নির্ধারণের প্রতীক এবং জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় পতাকা জাতির ইতিহাসের এক গৌরবজনক প্রতীক। এই পতাকা দিবস জাতির জন্য এক হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, “জাতীয় পতাকার মর্যাদা, তাৎপর্য এবং এর পেছনের আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্পর্কে দেশের প্রতিটি সন্তানের জানা অত্যন্ত জরুরি। এই চেতনা ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনাপর্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সবুজ রং আমাদের সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ ও তারুণ্যের প্রতীক, আর লাল বর্ণ শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। জাতীয় পতাকা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায় এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং ২ মার্চ কলাভবন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ পায়। সবুজ জমিনে লাল বৃত্ত ও সোনালি মানচিত্র সংবলিত সেই পতাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রত্যয়ের প্রতীক। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল সার্বভৌমত্বের প্রতীক নয়; এটি তারুণ্যের দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও বহন করে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে সাহসিকতার সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি আসে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাধ্যমে। তবে পতাকা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় নয়; বরং যে লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল—সার্বভৌম, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা—তা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতার রক্তাক্ত ইতিহাস ও আত্মত্যাগের দৃশ্যমান প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় পতাকা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। এ সময় প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন আ স ম আব্দুর রব; তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক বটতলাতেই প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা।
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!