ইরান যুদ্ধ
জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা।   ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা ও দখলের চেষ্টা করায় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,অনিবার্য কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত করা হলো।

‎জানা যায়, জবি সুপার ৫ এর নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতেই সাংবাদিকদের উপর হামলা করে বলে জানান একাধিক সূত্র।

‎প্রতক্ষ্যদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন প্রধান নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিতে থাকে। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের সমর্থনে কয়েকজন সাংবাদিক নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তাদের পক্ষ না নেওয়ায় বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ চালিয়ে যান তারা।

আজ দুপুরের দিকে ছাত্রদলের কয়েকশো নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। 

একপর্যায়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আরিফুল ইসলাম, ইয়াসিন সাইফ,মিজান উদ্দীন মাসুদ,নাজিদ,জিলন অনুসহ আরো অনেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। 

এতে জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অন্তত ১০ জন সাংবাদিকসহ জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ আহত হন। সাংবাদিকরা হলেন, যুগান্তরের সাকেরুল ইসলাম, কালের কন্ঠের জুনায়েত শেখ, সময়ের আলোর মুশফিকুর রহমান ইমন, বাংলাদেশের খবর পত্রিকার জান্নাতুন নাইম সহ আরো অনেকে।

‎সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ হামলার নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ।

‎জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন -২০২৬ এর একক নেতৃত্ব নিতে নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাপ প্রদান করে ছাত্রদল। পরবর্তীতে ছাত্রদলের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে জোর পূর্বক সমিতি দখল করতে আসেন ছাত্রদল। এসময় সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

‎এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন বলেন, গত ২ মার্চ সাংবাদিক সমিতির ২০২৬ সেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই আজ মনোনয়ন সংগ্রহের দিন ছিলো। কিন্তু গতকাল রাত থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো। 

আজ স্বাভাবিক ভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছিলো। এরই মধ্যে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীরা এসে সমিতিতে অবস্থানরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। বর্তমানে আমাদের ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।

‎উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২ মার্চ। তফসিল অনুযায়ী আজ মনোনয়ন সংগ্রহ ও প্রত্যাহার এবং আগামী ৮ই মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।