টেলিভিশন সিরিজ, ফিলিস্তিন
মিসরের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে টেলিভিশন সিরিজ সাহাব আল-আরদ।   ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান উপলক্ষে আরব বিনোদন জগতে প্রতি বছরই নির্মিত হয় নানা ইসলামিক ধারাবাহিক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সেই ধারাবাহিকতায় মিসরের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে টেলিভিশন সিরিজ সাহাব আল-আরদ। তবে সিরিজটির প্রমোশনাল ভিডিও প্রকাশের পরপরই এটি ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

নির্মাতারা জানিয়েছেন, সিরিজটিতে ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা ও মানবিক সংকটের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরা হবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নিপীড়িত মানুষের দুর্ভোগ ও গণহত্যার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সমালোচকেরা বলছেন, রমজান মাস আরব বিশ্বের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য সবচেয়ে লাভজনক সময়। এই সময়ে বিনোদনের মোড়কে গাজার মানুষের রক্ত ও আর্তনাদকে প্রচারণার অংশ বানানো নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন, যখন গাজায় এখনো যুদ্ধ চলছে এবং প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন সেই ট্র্যাজেডি নিয়ে নাটক বানানো এক ধরনের ‘নৈতিক অপরাধ’।

এক ফিলিস্তিনি নাগরিক ফেসবুকে লেখেন, ‘আমরা তাদের মরতে দিলাম, অবরুদ্ধ করে রাখলাম; আর এখন তাদের বীরত্ব নিয়েই টিভি শো বানাচ্ছি।’ এমন মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সমালোচকেরা আরও দাবি করছেন, গাজা কোনো কাল্পনিক চিত্রনাট্য নয়। মানুষের রক্ত ও কষ্টকে ভিউ বাড়ানোর উপকরণ বানানো শিল্পসুলভ কাজ হতে পারে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সিরিজটির পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা দিয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করা হলে তা বেশি কার্যকর হতো না কি না।

এ ছাড়া সিরিজে অভিনয় করা কয়েকজন তারকার বিরুদ্ধেও ‘ভণ্ডামির’ অভিযোগ উঠেছে। নেটিজেনদের দাবি, গত দুই বছরে গাজাবাসীর পক্ষে জোরালো অবস্থান না নিলেও এখন তাদের দুর্ভোগকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জনে নেমেছেন এসব শিল্পীরা।

১৫ পর্বের এই সিরিজে গাজায় কর্মরত একটি মিসরীয় চিকিৎসক দলের মানবিক কার্যক্রমের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় মিসরীয় অভিনেত্রী মেন্না শালাবি। ফিলিস্তিনি এক নাগরিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জর্ডানীয় অভিনেতা ইয়াদ নাসার।

তবে বিতর্কের মধ্যেও একটি পক্ষ মনে করছে, এই সিরিজের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।