যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এসব নথিতে রাজনীতি, ব্যবসা ও বিনোদন জগতের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই তালিকায় ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের নাম উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। তবে এবার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানালেন এই নির্মাতা।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, দণ্ডিত যৌন অপরাধী ও মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় অনুরাগ কাশ্যপকে ‘দ্য বলিউড গাই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়, চীনের সাংহাইয়ে প্রস্তাবিত একটি অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য অতিথি হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে সেখানে কাশ্যপের সঙ্গে এপস্টেইনের সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ বা সম্পর্কের প্রমাণের কথা উল্লেখ নেই।
এ প্রসঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় অনুরাগ কাশ্যপ বলেন, এপস্টেইন বা সংশ্লিষ্ট কোনো অনুষ্ঠানের বিষয়ে তার কোনো ধারণাই নেই। তিনি জানান, নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ পান, যার সংখ্যা মাসে প্রায় ১৫টির মতো। তবে এসব আমন্ত্রণের বেশির ভাগেই তিনি সাড়া দেন না।
কাশ্যপ আরও বলেন, তিনি জীবনে কখনো বেইজিংয়ে যাননি এবং চীনে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার বিষয়েও তার কোনো স্মৃতি নেই। এপস্টেইন ফাইলসে তার নাম আসাকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
নথিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই পরিচালক। তার মতে, এসব তথ্য মূলত কিছু এলোমেলো ইমেইলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার সঙ্গে বাস্তবতার তেমন কোনো যোগ নেই। কাশ্যপ ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, তার নাম নিয়ে তৈরি হওয়া ক্লিকবেইট খবরই নাকি তার ছবির চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এই বিতর্কের মাঝেই অনুরাগ কাশ্যপ ব্যস্ত রয়েছেন নিজের নতুন সিনেমা ‘কেনেডি’ মুক্তির প্রস্তুতিতে। ছবিটি শিগগিরই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি৫-এ মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে আগ্রহও বেশ তুঙ্গে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এপস্টেইন ফাইলসে শুধু অনুরাগ কাশ্যপই নন, আরও কয়েকজন ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নির্মাতা মীরা নায়ার এবং অভিনেত্রী ও পরিচালক নন্দিতা দাস। তবে তাদের ক্ষেত্রেও এপস্টেইনের সঙ্গে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততার তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নথিতে নাম রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ব্রিটিশ শিল্পপতি রিচার্ড ব্র্যানসন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও। যদিও নথিতে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকা এমন কোনো দাবি বিচার বিভাগ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত সপ্তাহে জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন এই নথিগুলো প্রকাশ করে। এতে বিভিন্ন সময় বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য উঠে আসে। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় আত্মহত্যা করেন বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়।
এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এই নথিগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য এবং নাম উঠে আসা ব্যক্তিদের দায় কতটুকু। অনুরাগ কাশ্যপের মতো অনেকেই ইতিমধ্যে এসব নথিকে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করতে শুরু করেছেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!