বীমা খাতের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে ঘোষিত ‘আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড–২০২৫’ দেওয়ার পর এবার গ্রেডিং মানদণ্ড প্রকাশ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পুরস্কার ঘোষণার পর মানদণ্ড নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
এর আগে কোনো নির্ধারিত ও প্রকাশ্য গ্রেডিং কাঠামো ছাড়াই ১৩টি বীমা কোম্পানিকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে নন-লাইফ খাতে ৭টি এবং লাইফ খাতে ৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঘোষণার পরপরই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
খাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ চূড়ান্তের প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী উদ্যোক্তাদের সন্তুষ্ট করতেই তড়িঘড়ি করে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম। এমনকি পুরস্কারপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেই অনুষ্ঠানের অর্থায়ন নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
আইডিআরএ’র ১৯৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি লাইফ এবং ৯ ফেব্রুয়ারি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির জন্য পৃথক গ্রেডিং মানদণ্ড প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, ছয়টি সূচকে সর্বমোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোকে মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত নেগেটিভ মার্কিংয়ের বিধান রাখা হয়েছে।
গ্রস প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধির জন্য রাখা হয়েছে ১০ নম্বর। লাইফ বীমায় ল্যাপস পলিসি রেশিও বা পার্সিস্টেন্সি রেশিও এবং নন-লাইফ বীমায় অগ্নিবীমা ব্যবস্থাপনার জন্য ১৫ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
দাবি ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ ৩০ নম্বর রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অনিষ্পন্ন দাবির রেশিওর জন্য ২০ নম্বর এবং সময়মতো দাবি নিষ্পত্তির জন্য ১০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় মোট ২৫ নম্বর। সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে ১০ নম্বর, বিনিয়োগ আয় (আরওআই) ১০ নম্বর এবং অস্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগে ৫ নম্বর রয়েছে।
এ ছাড়া ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ১০ নম্বর এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগ্যতায় ১০ নম্বর রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সিইওর জন্য ৪ নম্বর, সিএফওর জন্য ৩ নম্বর এবং কোম্পানি সেক্রেটারির জন্য ৩ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইডিআরএ’র কোনো নির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে অমান্য করা বা আরোপিত জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মোট নম্বর থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর কেটে নেওয়া হবে।
পরবর্তী অ্যাওয়ার্ডের জন্য ২০২৬ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে। কোম্পানিগুলোকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিরীক্ষিত হিসাব দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পুরস্কার ঘোষণার পর মানদণ্ড নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে আইডিআরএ বলছে, বীমা খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!