সুদিনের আশায় পুঁজিবাজারে ফিরছে বিনিয়োগকারী।
সুদিনের আশায় পুঁজিবাজারে ফিরছে বিনিয়োগকারী।   ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বেরিয়ে যাওয়ায় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাবে লেনদেনেও ধীরগতি দেখা যায়। তবে চলতি বছরের মার্চে সেই পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত মিলছে। বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগকারীরাও ধীরে ধীরে বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ১৭ দিনে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে ৫৫টি। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড়ে চারটির বেশি নতুন বিও হিসাব খোলা হয়েছে। একই সময়ে দেশি বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব বেড়েছে ৩ হাজার ১৬টি, যা প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ২৫১টির বেশি।

১৭ মার্চ পর্যন্ত মোট বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৫২টি। এর মধ্যে দেশি বিনিয়োগকারীর হিসাব ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৩১টি এবং বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর হিসাব ৪৩ হাজার ১৯৭টি। মার্চে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেলেও, ২০২৩ সালের তুলনায় বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা এখনও প্রায় ১২ হাজার কম রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের ধরন অনুযায়ী, পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব ১২ লাখ ৪৪ হাজার ২২৬টি, যা চলতি বছরে ১০ হাজারের বেশি বেড়েছে। নারী বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ২টি, বৃদ্ধি হয়েছে ২ হাজারের বেশি। কোম্পানির বিও হিসাব বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ২৪টি।

হিসাবের ধরন বিবেচনায়, একক নামে বিও হিসাব রয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ২১৭টি এবং যৌথ নামে ৪ লাখ ৪১ হাজার ১১টি। চলতি বছরে একক ও যৌথ হিসাব যথাক্রমে ১১ হাজার ৫০২টি এবং ১ হাজার ১৫৪টি বেড়েছে।

তবে সাম্প্রতিক এই প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও, সামগ্রিক চিত্রে এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের শুরুতে মোট বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৫২টিতে। অর্থাৎ এক বছরে হিসাব কমেছে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি।