ইফতারে মুড়ি খাওয়া: স্বাস্থ্যকর নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?
ইফতারে মুড়ি খাওয়া: স্বাস্থ্যকর নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?   ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের খাবারের মধ্যে মুড়ির জনপ্রিয়তা অনস্বীকার্য। ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজু কিংবা জিলাপির সঙ্গে মুড়ি যেন পারফেক্ট কম্বিনেশন। কিন্তু দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর মুড়ি কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? নাকি এতে লুকিয়ে থাকে কিছু ঝুঁকি?

মুড়ির পুষ্টিগুণ

এক কাপ (১৪ গ্রাম) মুড়িতে পাওয়া যায়:
• ক্যালরি: ৫৬ কিলোক্যালরি
• প্রোটিন: ০.৯ গ্রাম
• শর্করা: ১২.৬ গ্রাম
• ফাইবার: ০.২ গ্রাম
• চর্বি: ০.১ গ্রাম
• আয়রন ও কিছু বি-ভিটামিন

দেখা যাচ্ছে, ক্যালরি ও চর্বি কম, কিন্তু ফাইবার ও প্রোটিনও খুবই সীমিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) প্রায় ১০৫, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে।

ইফতারে মুড়ি খাওয়ার পরামর্শ

রোজা শেষে অল্প পরিমাণ মুড়ি খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র মুড়ি খেলে পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে না, ফলে পরবর্তী সময়ে ক্ষুধা বেড়ে যায়। হঠাৎ রক্তে শর্করার ওঠা-নামা ক্লান্তি ও মাথা হালকা লাগার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ভালো নিয়ম:
• ১–২ কাপ মুড়ি খাওয়া যথেষ্ট
• সঙ্গে রাখুন শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, দই বা বাদাম
• ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সর্বোচ্চ আধা কাপ, সঙ্গে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা জরুরি

মুড়ি কি ওজন কমায়?

মুড়িতে ক্যালরি কম হওয়ায় অল্প পরিমাণে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ফাইবার কম হওয়ায় ক্ষুধা দ্রুত বাড়ায়, তাই অতিরিক্ত খাবারের ঝুঁকি থাকে।

খালি পেটে মুড়ি খাওয়া কি ঠিক?

খালি পেটে মুড়ি খাওয়া উচিত নয়। রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠা-নামা দুর্বলতা, ক্লান্তি, এবং ডায়াবেটিস বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষ কথা:
মুড়ি ইফতারের আনন্দে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু পরিমাণ ও সঙ্গী খাবারের দিকে নজর রাখলেই এটি হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও হালকা ইফতারির উপাদান।

সূত্র: নিউট্রিস্ক্যান