দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ও সতেজতা ফেরাতে পানীয়র ভূমিকা অপরিসীম। রোজায় ইফতারের সময় অনেকেই ডাবের পানি বা আখের রস বেছে নেন। দুটিই প্রাকৃতিক, সতেজ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে হাইড্রেশন, চিনির মাত্রা, ক্যালোরি ও হজম-সব দিক বিবেচনায় কোনটি বেশি উপকারী? তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র হলো সঠিক পানীয়র পরিমিত ব্যবহা
হাইড্রেশন ও ইলেক্ট্রোলাইট
ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে শরীরে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তা দ্রুত পূরণে এই ইলেক্ট্রোলাইটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে গরমের দিনে বা অতিরিক্ত ঘাম হলে ডাবের পানি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে।
অন্যদিকে আখের রসেও কিছু খনিজ উপাদান থাকে, তবে ডাবের পানির মতো সুষম ইলেক্ট্রোলাইট প্রোফাইল নেই। ফলে সরাসরি পানিশূন্যতা কাটাতে ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।
আখের রসে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি। রোজার পর শরীর যখন দ্রুত শক্তি চায়, তখন এক গ্লাস আখের রস তাৎক্ষণিক এনার্জি দিতে পারে। তবে এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগী বা যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, তাদের জন্য এটি সতর্কতার বিষয়।
অন্যদিকে ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও পরিমাণ কম। ক্যালোরিও তুলনামূলকভাবে কম, তাই হালকা ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে এটি বেশি উপযোগী।
রোজার পর অনেকের পেট সংবেদনশীল থাকে। আখের রসের উচ্চ চিনির ঘনত্ব অতিরিক্ত পান করলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। ডাবের পানি হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় হজমে কম সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই ইফতারের শুরুতে ডাবের পানি পেটের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।
আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অল্প আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে। ডাবের পানিতে পটাসিয়াম বেশি, যা পেশী ও স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হালকা পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া বা হিট স্ট্রোকের সময় ডাবের পানি উপকারী বলে ধরা হয়। এমনকি অনেকের মতে এটি মাইগ্রেনের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তাদের অতিরিক্ত ডাবের পানি পান না করাই ভালো, কারণ এতে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি।
তাজা আখের রস দ্রুত পান করা উচিত, কারণ এটি সহজে নষ্ট হয়। বাইরে থেকে কেনার ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ডাবের পানি খোলার পর ৪-৬ ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা উচিত নয়, তবে প্যাকেটজাত ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সুবিধাজনক।
কোনটি বেছে নেবেন....
যদি লক্ষ্য থাকে দ্রুত হাইড্রেশন ও শরীরকে সতেজ রাখা, তবে ডাবের পানি এগিয়ে। আর যদি তাৎক্ষণিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তবে পরিমিত পরিমাণে আখের রস উপকারী হতে পারে।
"সুস্থতার মূলমন্ত্র হোক পরিমিতিবোধ। ইফতারে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা পাকস্থলীকে স্বস্তি দিতে প্রথমে পানি বা ডাবের পানি দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এরপর শরীরের তাৎক্ষণিক শক্তির চাহিদা মেটাতে সীমিত পরিমাণে আখের রস পান করা যেতে পারে। মূলত আপনার একটি সচেতন পছন্দই ইফতারকে যেমন স্বাস্থ্যসম্মত করবে, তেমনি করে তুলবে উৎসবমুখর ও উপভোগ্য।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথ লাইন
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!