ইরানের তেহরানের একটি মসজিদে আগুন ও ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের পতাকা উড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তেহরানসহ বিভিন্ন জায়গায় টানা দুই রাত তীব্র সরকার বিরোধী আন্দোলন হয়েছে। শুক্রবার রাতেও বিক্ষোভ মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ এবং ইয়জদে ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবারের বড় বিক্ষোভের পর শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতেও বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের সাদাতাবাদে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। এছাড়া কুদস স্কয়ারেও অনেকে এসেছেন। এর পাশাপাশি তাবরিজেও বিক্ষোভকারীদের দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। তারা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু কামনা করে আর রাজতন্ত্রের (শাহ শাসন) পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ না নিতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয় দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে। বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় বলা হয় আপনার সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে দেবেন না। সতর্কতা দিয়ে বলা হয়, যদি সেখানে গোলাগুলি হয় এবং আপনার সন্তানের কিছু হয় তাহলে অভিযোগ করবেন না। এমন সতর্কবার্তা ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে রাখলেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
গেল বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করলেও এটি সহিংস রূপ ধারণ করে। টানা ১৩ দিন ধরে দেশটিতে এ বিক্ষোভ চলছে। ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহত হন অন্তত ৪৫ জন।
এরমধ্যে টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র তেহরানেই ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিশানা করে, তবে সেখানে হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে ইরানকে ‘কঠোর’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির বিপরীতে ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে । তার নিরাপত্তা বা ভূখণ্ডে যেকোনো আঘাতকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান আরও জানিয়েছে, যেকোনো হামলা বা অব্যাহত শত্রুতামূলক আচরণের বিপরীতে তারা চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেবে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার কথা স্বীকার করলেও এ দাঙ্গা উসকে দেওয়ার জন্য ‘বাইরের শক্তিকে’ দায়ী করেছেন। বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচণায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এখন সহিংস হয়ে পড়েছে।
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!