অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, সাম্প্রতিক দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইসফাহান প্রদেশে, যেখানে ৩০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহে আরও ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সহিংসতা থেকে বাদ যায়নি সেবা সংস্থাগুলোও। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশের রাজধানী গোরগানে তাদের একটি ত্রাণ কেন্দ্রে হামলার সময় এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া শনিবার রাতে মাশহাদ শহরের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দাঙ্গা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা এই অস্থিরতা ও সহিংসতার সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানি সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট হলেও, তারা এই ধরনের প্রাণঘাতী সহিংসতাকে সমর্থন করছেন না।
মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সাধারণ প্রতিবাদ এখন সহিংস রূপ নিয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ হাসান আহমাদিয়ান জানান, গত বৃহস্পতিবার ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে ‘ভয়ঙ্কর দিন’। তবে গত দুই দিনে সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার এক সাক্ষাৎকারে এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দাঙ্গার নির্দেশ দিয়ে ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি সাধারণ নাগরিকদের ‘দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ওয়াশিংটন ইরানে কোনো ধরনের আক্রমণ করে, তবে তার উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!