ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই উত্তেজনা আরও বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাজধানী দোহায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনাবৃদ্ধি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ কারণেই কাতার যতটা সম্ভব উত্তেজনা এড়িয়ে চলার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পটভূমিতে গত বছরের জুনে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সে সময় ইরানের পরমাণু প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। কাতারের ভূখণ্ডে এটিই ছিল কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা। ওই সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে কাতার। সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যত গড়াচ্ছে, আন্দোলনের তীব্রতাও তত বাড়ছে। এই বিক্ষোভের মূল কারণ অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার কারণে ইরানে দীর্ঘদিন ধরে চরম মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই তা ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশটি।
বিক্ষোভ দমনে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের জনগণের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার তিনি ইরানের জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আসছে।
এদিকে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
এমকে/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!