জেলেনস্কি, ইরান
ভলোদিমির জেলেনস্কি।   ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন–পীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসা জরুরি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করি। যে শাসনব্যবস্থা এত বছর ধরে টিকে আছে এবং অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে, সেটির পরিবর্তন হওয়া দরকার।’

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে ইরানের ভূমিকা নিয়ে আগে থেকেই কিয়েভ ক্ষুব্ধ। জেলেনস্কির এই বক্তব্যে সে অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইউক্রেনের এই সমর্থন এমন এক সময়ে এল, যখন বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন–পীড়নের অভিযোগে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা ও বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘নির্মম হত্যাকাণ্ড’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না। ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থানের সঙ্গে ইউক্রেনের একাত্মতা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে তাঁদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সাহায্য আসছে’। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কির অবস্থানের পেছনে বড় কারণ হলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার। ইরানে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এলে রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল হবে—এমন হিসাব থেকেই কিয়েভ প্রকাশ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।

অন্যদিকে তেহরান শুরু থেকেই এই বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে আসছে। ইরান সরকারের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে দেশটির সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

সূত্র: আল জাজিরা