দায়িত্ব পালনে গাফলতি বা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির অভিযোগ পুলিশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ জন্য সুশীল সমাজ, সাংবাদিকসহ নানা জায়গা থেকে পুলিশকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন সময়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনি তেমন কোনো পদক্ষেপই দেখা যায় নি। তাই প্রশ্ন আসছে পুলিশ সদস্যরা কি বারবারই পার পেয়ে যাবে? পরিবর্তিত বাংলাদেশে পুলিশ বিভাগে কোনো গুণগত পরিবর্তন এসেছে কিনা, এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে। উঠে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত পুলিশ সংস্কারের বিষয়টিও।
পুলিশ আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত, বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (যেমন- পদাবনতি বা চাকরি থেকে অপসারণ) করার কথা। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি ও পরবর্তী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়ে থাকে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও শাস্তির বিধান পরবর্তীতে আর কার্যকর হয় না। সর্বোচ্চ বদলি করা হয়- যেটা কখনো কখনো শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কার হয়ে যায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য।
শহীদ ওসমান হাদী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে শুক্রবার যমুনার সামনে যাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ ফ্যাসিবাদী স্টাইলেই হামলা চালায়। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ মোড়ে কয়েক দফায় তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি পুলিশ। অনেক পুলিশ সদস্য তাদের পেশাদারিত্বের জায়গায চরমভাবে সীমালংঘন করে অশ্লীল বাক্য ও ব্যক্তিগত আক্রোশ দেখিয়েছে। এক পুলিশ সদস্যকে বলতে দেখা যায়- 'আয় তোরা হাদির লাশ নিয়ে যা' এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ শব্দ উচ্চারণ করতে। হাদী ভক্তদের ধরতে লোকাল বাসে অভিযানও চালায় তারা। এসময় কাউকে বের করে আনার উদ্দেশ্যে আরেক পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়- ‘জুলাই নামা’।
আরও আগ বাড়িয়ে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। পথচারী ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে, সাংবাদিকদের লাঠিপেটা করে তারা। লাইভে থাকা এক সাংবাদিককে লাথি মেরে মাটিতেও ফেলে দেয়া হয় এসময়। রাস্তার পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা হাদি ভক্তকে ৮-১০ জন মিলে ঘিরে ধরে বেদম পেটানোর মত অমানবিক কাজও মঞ্চায়ন করে পুলিশ।
স্বয়ং ডিএমপি কমিশনারের সাধারণ গেঞ্জি গায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করার ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার এর শুরুটা হয়েছিল যমুনা ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় পে-স্কেল আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশি অ্যাকশনের মধ্য দিয়ে!
তবে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি তালেবুর রহমান শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, শুক্রবার পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পুলিশ কাউকে টার্গেট করে মারেনি। এটা ছিল অনিচ্ছাকৃত ঘটনা।
পুলিশের এমন অপেশাদার আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অপরাধ বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর তৌহিদুল হক আরটিএনএন’কে বলেন, ‘গতকাল যে ঘটনাটা দেখলাম সেখানে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দেখতে হবে আসলে যাদের দায়িত্বশীল আচরণ করার কথা সেটা করেছে কিনা। বিশেষ করে পুলিশ ও আন্দোলনকারী উভয়ের ক্ষেত্রে কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে অপেশাদার আচরণ করছে কিনা কিংবা কোন আন্দোলনকারী কৌশলে তৃতীয় পক্ষের হয়ে আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে কিনা?’
সঠিক তদন্তের স্বার্থে সেই বিষয়গুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত বছর ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের মাসেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছয়-সাতজন সাংবাদিককে বিনা কারণে বেদম পিটিয়ে আলোচিত হয়েছিল পুলিশ। তখনো পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের আশ্বাস দিয়েছিল তারা বিভাগীয় আইনে অভিযুক্ত সদস্যদের বিচার করবে। তবে সেই তদন্ত ও বিচার এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
সেই ইস্যুতে হতাশা ব্যক্ত করে ভুক্তভোগী আহত সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল আরটিএনএন’কে বলেন, নতুন বাংলাদেশে আমরা যেমন পুলিশ চেয়েছিলাম তার বিন্দুমাত্র আউটপুট আমরা দেখি নাই। পুলিশের যথাযথ সংস্কার না হওয়ার ইস্যুতেও তিনি চরম হতাশা ব্যক্ত করেন।
পুলিশ কর্তৃক বারবার সাংবাদিকের উপর হামলা-নির্যাতন ইস্যুতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ আমরা যেই পুলিশ চেয়েছিলাম সেই পুলিশ আমাদের ভাগ্যে জোটে নি। পুলিশ আগের মতই রয়ে গেছে। আমরা চেয়েছিলাম সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও সেল্টার দিবে পুলিশ কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো পুলিশই সাংবাদিকদের উপরে বিনা কারণে নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন করে যাচ্ছে। অতীতে সাংবাদিকদের উপর পুলিশের উপর যতগুলো আক্রমণ ছিল, কোনোটার যথাযথ বিচার হয়নি পুলিশ বিভাগে। এ কারণেই পুলিশ তার ফ্যাসিস্ট আচরণ চলমান রেখেছে।’
উল্লেখ্য গত শুক্রবার হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাকসু জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার, সাবেক সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ প্রায় শতাধিক মানুষকে আহত করে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঐসময় কয়েকজন পেশাদার সংবাদকর্মী পুলিশি হামলার শিকার হন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!