বেলুচিস্তান, বিচ্ছিন্নতাবাদী
পাাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযান   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম বেলুচিস্তানের খারান শহরে সরকারি ও বাণিজ্যিক ভবনে সমন্বিত হামলা চালিয়েছিল একদল বিচ্ছিন্নতাবাদী । তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক ও কার্যকর অভিযানে অন্তত ১২ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে এবং তাদের জিম্মি করার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (তারিখ) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

হামলার বিবরণ ব্যাংকে লুটপাট :
আইএসপিআর জানায়, ভারত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য খারান শহরে একাধিক স্থানে হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেড।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ব্যাংক থেকে ৩৪ লাখ রুপি লুট করে এবং পুলিশ স্টেশনে উপস্থিতদের জিম্মি করার চেষ্টা করে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে তাদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নতুন কৌশল ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’:
পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারত এই গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের, বিশেষ করে বেলুচিস্তানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে, যা তাদের ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ কৌশলের অংশ।

খারান ও এর আশেপাশের এলাকায় এখনো ‘মপ-আপ অপারেশন’ বা তল্লাশি অভিযান চলছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ এবং ‘আজম-ই-ইস্তিহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া সতর্কবার্তা :
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগটি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে জানান, অভিযানে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, তিনটি ভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে চার বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয় এবং বাকিদের পরবর্তী লড়াইয়ে নির্মূল করা হয়।

বুগটি বলেন, “সন্ত্রাসীরা এখন আদর্শিক কার্যক্রম ছেড়ে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ব্যাংক ডাকাতির দিকে ঝুঁকছে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। তবে তারা রাস্তায় নামলে পরাজিত হবে এবং গর্তে লুকালেও আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের খুঁজে বের করব।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা নতুন উদ্যোগ :
মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপরিকল্পিত ফোর-জি টাওয়ার স্থাপন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাঙ্গানের মতো জনবিরল এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের অনুমতি কে দিয়েছে? তার মতে, অনিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট সুবিধা শত্রুপক্ষ ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি বেলুচিস্তানজুড়ে ফাইবার অপটিক সংযোগ সম্প্রসারণের জন্য ৩০০ কোটি রুপির একটি মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে, যা নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করবে এবং অপব্যবহার রোধে নজরদারি সহজ করবে।

সূত্র : দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

আরটিএনএন/এআই