ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রিনল্যান্ড
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহনে ট্রাম্পের হুমকিকে বিপজ্জনক মনে করছে মিত্র দেশগুলো   ছবি: সংগৃহীত

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার (অধিগ্রহণ) অদ্ভুত প্রস্তাব এবং এর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পশ্চিমা মিত্ররা যদি তার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে তাদের বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক বছরে ট্রাম্পের কাছ থেকে অনেক অপ্রত্যাশিত অর্থনৈতিক হুমকি এসেছে, কিন্তু এবারের বিষয়টি সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এটিকে একটি ‘পরাবাস্তব’ এবং অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি এই হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়, তবে এটি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরুদ্ধে এক ধরণের অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। কারণ, খুব অল্প সময়ের নোটিশে এমন একটি তুচ্ছ কারণকে কেন্দ্র করে মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা মূলত ন্যাটো এবং পশ্চিমা জোটকে ভেঙে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করে।

স্বভাবতই, মিত্র দেশগুলোর কর্মকর্তারা এই ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি এতটাই অদ্ভুত যে, তারা রাগান্বিত হওয়ার চেয়ে বিভ্রান্তই বেশি। বিশ্বের কেউ কল্পনাও করেনি যে, কোনো মিত্র দেশের জমি দখলের ইচ্ছাকে কেন্দ্র করে এমন হুমকি বাস্তবে দেওয়া হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বা ট্রাম্পের নিজের প্রশাসনেও কি এই অদ্ভুত পদক্ষেপের সমর্থন আছে?

অনেক বাণিজ্য কর্মকর্তা অবশ্য ধারণা করছেন, এটি হয়তো ট্রাম্পের আরেকটি ফাঁকা বুলি বা ‘ট্যাকো’ (TACO - Trump Will Chicken Out), যেখান থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত পিছু হটবেন। কারণ অতীতেও এমন হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সেই ক্ষতি সামলে নিয়েছে।

প্রতিবেদনে কানাডার উদাহরণ টেনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য কমে গেলেও মার্ক কার্নির (তৎকালীন উল্লেখিত নীতি নির্ধারক) কৌশলে বিশ্বের বাকি অংশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কার্নি বর্তমানে চীনে ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা’র (New World Order) পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ‘চীন বনাম বিশ্ব’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

তবে ট্রাম্পের এই হুমকি যদি সত্যি হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর কারণ শুধু ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ভয় নয়, বরং এর পেছনের যুক্তি—অর্থাৎ জোর করে মিত্রের জমি দখলের চেষ্টা। চীন বা রাশিয়া যদি তাদের মিত্রদের প্রতি এমন হুমকি দিত, তবে বিশ্ব কী প্রতিক্রিয়া দেখাত, তা সহজেই অনুমেয়।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে আমেরিকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং প্রেসিডেন্টের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগামী বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প সেইসব মিত্র নেতাদের সঙ্গেই বৈঠকে বসবেন, যাদের অর্থনীতিকে তিনি সদ্য হুমকি দিয়েছেন। বিশ্ববাসী আশা করছে, ততক্ষণে এই নজিরবিহীন ও অদ্ভুত হুমকিটি কোনোভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

সূত্র : বিবিসি

আরটিএনএন/এআই