সার্বিয়ার ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিকের সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে শনিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদে হাজারো মানুষ বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘চোর’ স্লোগান দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। সমাবেশে ছাত্রনেতারা জানান, তারা সার্বিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। ভুসিক-পরবর্তী সরকারে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা এবং তাদের সম্পদের তদন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
‘বিজয় মানে যা’ (What victory will mean) শীর্ষক এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত মাসে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছিল, তাদের দাবির পক্ষে প্রায় ৪ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ জানুয়ারি রাজধানী বেলগ্রেডে পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আন্দোলনের পটভূমি :
২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদে একটি ট্রেন স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত এক বছর ধরে এই ছাত্র আন্দোলন চলছে। সাধারণ মানুষ এই দুর্ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির চরম প্রতীক হিসেবে দেখছে। দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তিতে হাজার হাজার মানুষ ১৬ মিনিটের নীরবতা পালন করে নিহতদের স্মরণ করেন।
এ ঘটনায় সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও, প্রমাণের অভাবে গত মাসে নোভি সাদ হাইকোর্ট ভেসিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিলের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিয়ে ইইউ-সমর্থিত তদন্তের পাশাপাশি একটি পৃথক দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত এখনো চলছে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও প্রেসিডেন্টের অবস্থান :
ট্রেন স্টেশনের দুর্ঘটনার জেরে তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন এবং সরকার পতন ও নতুন সরকার গঠন হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ভুসিক ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। তিনি দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং বিক্ষোভকারীদের ‘বিদেশি অর্থপুষ্ট অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি তার দল এসএনএস দাবি করছে, ট্রেন স্টেশনের ছাদ ধসের ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।
শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে আগাম নির্বাচনের দাবি জানালেও ভুসিক তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সরকারের বিরোধিতার কারণে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং অনেকে চাকরি হারিয়েছেন বা চাপের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুসিক শুরুতে সার্বিয়াকে ইইউতে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা খর্ব এবং সংগঠিত অপরাধ ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে মূলধারার রাজনীতিবিদদের ওপর বিরক্ত সাধারণ সার্বিয়াবাসীর কাছে এই ছাত্র আন্দোলন ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!