ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রিনল্যান্ড
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বৃদ্ধি পাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কট   ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড আর সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার মধ্যে মিল কেবল বরফ আর তাপমাত্রায়। তবে এই সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) বিশ্বনেতা ও ব্যবসায়ীদের যে মিলনমেলা বসছে, সেখানে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ের বিষয়টি। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই অস্বাভাবিক হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মেলনের এই সময়টিকেই সচেতনভাবে বেছে নিয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক সমর্থকদের মতাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও, ট্রাম্প দাভোস পছন্দ করেন। গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের মাত্র দুই দিন পর হোয়াইট হাউস থেকে ভিডিওর মাধ্যমে ফোরামে যুক্ত হয়ে ইউরোপীয় নির্বাহীদের বিভ্রান্ত করে দিয়েছিলেন তিনি।

সে সময় কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের একটি ‘প্রত্যাখ্যান অযোগ্য প্রস্তাব’ দিয়েছিলেন। হাসিমুখে তিনি বলেছিলেন, "আমেরিকায় কারখানা তৈরি করুন, নতুবা ট্রিলিয়ন ডলার শুল্ক গুনতে হবে—সিদ্ধান্ত আপনাদের।" গতবার সশরীরে না আসতে পারার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এবার আসবেন।

সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বুধবার তিনি দাভোসে উপস্থিত হয়ে ‘টিম ইউএসএ’ বার্তা প্রচার করবেন। তার উপস্থিতি এবং বিতর্কিত নীতির কারণে এবারের দাভোস সর্বকালের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ইউরোপসহ বিশ্বের বাকি অংশ গভীর বিভ্রান্তিতে পড়েছে। ট্রাম্পের কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিকে ফোরামের কোনো তাত্ত্বিক সেশনে হয়তো "দ্য গ্রেট গ্লোবাল ডিসরাপশন" বা "মহাবৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা" হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।

বর্তমানে ট্রাম্পই যেন প্রধান 'বিশৃঙ্খলকারী' (Disruptor in chief)। গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে ইউরোপকে অর্থনৈতিকভাবে জবরদস্তি বা বাধ্য করার যে চেষ্টা তিনি করছেন, তা নিয়ে বিশ্বনেতা ও করপোরেট প্রধানরা তাকে ঘিরে ধরবেন। এই সপ্তাহে দাভোস ফোরাম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বটে, তবে সেখানকার পরিবেশ হবে অত্যন্ত উদ্ভট।

এবারের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক প্রতিপাদ্য হলো "সংলাপের চেতনা" (A spirit of dialogue)। এ ধরনের ইভেন্টে আলোচনার এমন সুযোগ থাকে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তবে মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান আচরণ এই স্থানের মূলমন্ত্র অর্থাৎ ‘বৈশ্বিক সহযোগিতা’র সম্পূর্ণ বিপরীত বলেই মনে হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি

আরটিএনএন/এআই