শান্তিতে নোবেল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোর, ডেনমার্ক, রাশিয়া, চীন,
শান্তিতে নোবেল পাননি বলেই ‘অশান্তি’ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প   ছবি সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ থামানোর তালিকা তুলে ধরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত তা পাননি। সেই ক্ষোভ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে। এমনকি যখন পুরস্কারে নিজের নাম ঘোষণা হয়নি, তখনই ট্রাম্প সিদ্ধান্ত বদলান, ‘এবার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভাবব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার প্রকাশিত এক বার্তায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরকে জানান, একই বার্তায় ট্রাম্প বিশ্বশান্তির স্বার্থে স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেয়ার ইচ্ছা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

নরওয়ের গণমাধ্যম ভিজি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নোবেল না পাওয়ার কারণেই ট্রাম্পের রুদ্রমূর্তি দেখছে বিশ্ব। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। 

ভিজির বরাতে গার্ডিয়ান জানিয়েছে বিস্ময়কর ওই চিঠিতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের কথাও বলেছিলেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভিজির হাতে আসা ওই চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার পর তিনি আর ‘শুধু শান্তির কথা’ ভাববেন না।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরকে পাঠানো ওই বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘আপনাদের দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আটটি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দিতে—এ অবস্থায় আমি আর কেবল শান্তির কথা ভেবে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না।’

তিনি বলেন, শান্তি এখনো ‘প্রধান বিষয়’ হিসেবে থাকবে, তবে তিনি এখন ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী ভালো ও উপযুক্ত, সে বিষয়ে ভাবতে পারেন’।

স্টোরের দপ্তর এক ইমেইলে এএফপিকে নথিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

লিখিত এক মন্তব্যে স্টোর জোর দিয়ে বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ে সরকার দেয় না। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছি—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও—যা সুপরিচিত, তা হলো এই পুরস্কার একটি স্বাধীন নোবেল কমিটি দিয়ে থাকে।’

ট্রাম্প তার বার্তায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আকাঙ্ক্ষাও পুনরায় তুলে ধরেন, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি লেখেন, ‘ডেনমার্ক রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে ওই ভূখণ্ড রক্ষা করতে পারে না।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাদের সেখানে মালিকানার “অধিকার”ই বা কেন থাকবে? কোনো লিখিত নথি নেই, শুধু কয়েক শত বছর আগে একটি নৌকা সেখানে ভিড়েছিল—আমাদের নৌকাও সেখানে ভিড়েছিল।’

তিনি আরো লেখেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।’

ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, তিনি আটটি যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ নেয়ায় গত বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য জোর প্রচার চালিয়েছিলেন। তবে পুরস্কারটি দেয়া হয় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। তিনি নৌকায় করে নাটকীয়ভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে গিয়ে গত মাসে অসলোতে উপস্থিত হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন। মাচাদো ওই পুরস্কারটি ট্রাম্পের নামে উৎসর্গ করেন এবং গত সপ্তাহে তার পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন।

গণমাধ্যমটিকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জানান, চিঠিটি এসেছে তার পক্ষ থেকে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত বার্তার জবাবে। তবে ঠিক কবে এই জবাব এসেছে, তা জানাননি তিনি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের মুখোমুখি দাড়িয়েছেন ট্রাম্প। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আমদানির ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠকে বসেন। ওয়াশিংটনের এই ভূখণ্ড দখলের চাপকে কেন্দ্র করে ট্রান্সআটলান্টিক উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকায় তারা পাল্টা শুল্ক ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ন্যাটোর প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি ‘অন্য যে কারও চেয়ে ন্যাটোর জন্য বেশি কাজ করেছেন। তাই এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু করা। তিনি লিখেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।