সিরিয়া, কুর্দি বাহিনী
কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।   ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর বিদ্যুৎগতির অভিযান ও ব্যাপক এলাকা দখলের পর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। সিরীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা (১৭:০০ জিএমটি) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। কুর্দিদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এবং সিরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার অংশ হিসেবে দামেস্কের ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সহকারী’ পদের জন্য এসডিএফ-এর কাছে একজন প্রার্থীর নামও চেয়েছে সরকার।

এসডিএফের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অভিযোগ
এসডিএফ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিয়ে জানিয়েছে, আক্রান্ত না হলে তারা কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে জড়াবে না। এক বিবৃতিতে তারা বলে, “আমরা রাজনৈতিক পথ, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং সংলাপে বিশ্বাসী। উত্তেজনা কমাতে ১৮ জানুয়ারির চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা প্রস্তুত।”

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই এর লঙ্ঘন নিয়ে অভিযোগ তুলেছে এসডিএফ। গোষ্ঠীটির দাবি, সরকার সমর্থিত বাহিনী হাসাকার দক্ষিণে তাল বারুদ গ্রামে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।

এসডিএফ-এর মুখপাত্র ফরহাদ শামি অভিযোগ করেন, দামেস্ক-পন্থী গোষ্ঠীগুলো জারকান শহরে গত কয়েক ঘণ্টায় তীব্র গোলাবর্ষণ করেছে। এছাড়া রাক্কার উত্তরে আল-আকতান কারাগারে পাঁচটি আত্মঘাতী ড্রোন ও ভারী গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি ও আল-হোল ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ
সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার জন্য সাম্প্রতিক এই অভিযানকে সবচেয়ে বড় সাফল্য এবং ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে সরকারি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হয়ে এসডিএফ-এর দখলে থাকা বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-হোল ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে। এসডিএফ এর আগেই ক্যাম্পটির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়। কুখ্যাত এই ক্যাম্পে হাজার হাজার আইএসআইএস (আইএস) যোদ্ধার পরিবার এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত দীর্ঘদিনের শরণার্থীরা বসবাস করছেন।

হাসাকা ও কামিশলি পরিস্থিতি
বর্তমানে কুর্দি ও আরব অধ্যুষিত হাসাকা শহর এবং কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ কামিশলি শহর এখনো এসডিএফ-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিরীয় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, চার দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে তাদের বাহিনী এই দুটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করবে না।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই