জেলেনস্কি, ইউক্রেন
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে কিয়েভ   ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে কিয়েভ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার মধ্যেই ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনার জন্য মস্কোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

সবকিছুই এখন ভূমিকে কেন্দ্র করে’:
মস্কো যাওয়ার আগে ট্রাম্পের দূত উইটকফ চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা সমস্যাটিকে একটি মাত্র ইস্যুতে নামিয়ে এনেছি এবং এটি সমাধানযোগ্য।”

উইটকফ সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি কী তা খোলাসা না করলেও, জেলেনস্কি পরবর্তীতে স্পষ্ট করেন যে, পূর্ব ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ মর্যাদাই এখন একমাত্র অমীমাংসিত ইস্যু।

ডাভোসে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এ সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, “সবকিছুই এখন ভূমি বা ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে। এটিই একমাত্র সমস্যা যা এখনো সমাধান হয়নি।” তিনি জানান, আমিরাতের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের পাশাপাশি রাশিয়াও অংশ নেবে। জেলেনস্কি বলেন, “শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়াকেও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

কী আছে মার্কিন প্রস্তাবে?
ইউক্রেনের শিল্পসমৃদ্ধ ডনবাস অঞ্চলের জন্য মার্কিন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিনিময়ে সেখানে একটি নিরস্ত্রীকৃত এবং মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Demilitarised and free economic zone) তৈরি করা হবে। মার্কিন ২০-দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, যদি রাশিয়া তাদের সেনা সরিয়ে নেয়, তবে ইউক্রেনও ডোনেটস্কের তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে ৪০ কিমি (২৫ মাইল) পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করতে রাজি আছে।

নিরাপত্তা ট্রাম্প ফ্যাক্টর :
জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, চুক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সমঝোতা হয়েছে। তবে এর জন্য মার্কিন কংগ্রেস ও ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং’ চুক্তি পর্যবেক্ষণে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিলেও জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপরই জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তাই কাজ করবে না।”

এর আগে ডাভোসের বক্তৃতায় জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের "রাজনৈতিক সদিচ্ছার" অভাবের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইউরোপ অভ্যন্তরীণ তর্কে ব্যস্ত, যা তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে বাধা দিচ্ছে। এর বিপরীতে তিনি ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অটল এবং তিনি এই ধরনের ইউরোপের কথা শুনবেন না।”

যুদ্ধ পরিস্থিতি উচ্চ পর্যায়ের দল :
কিয়েভের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর রুশ হামলার কারণে জেলেনস্কির ডাভোস সফর কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। যুদ্ধের প্রায় চার বছরে এটিই সবচেয়ে কঠিন শীতকাল পার করছে ইউক্রেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও হিটিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

আমিরাতের আসন্ন বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, জেলেনস্কির অফিসের প্রধান কিরিলো বুদানভ, নেগোশিয়েটর ডেভিড আরাখামিয়া এবং সেনাপ্রধান আন্দ্রি হনাতভ।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মার্কিন দূতদের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যু ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা চলবে। তবে তিনি উইটকফের মতো চুক্তির বিষয়ে এখনই আশাবাদী কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পুতিন পুরো ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চান বলে ধারণা করা হয়, যেখানে গত এক বছরে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

আরটিএনএন/এআই