ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্তের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিস্তিনের তিনটি আইনি সংস্থা। আগামী মাসের শুরুতে হারজোগের অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা রয়েছে।
শুক্রবার (গতকাল) সংস্থাগুলো অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই তদন্তের দাবি জানায়। সেখানে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সময় প্রেসিডেন্ট হারজোগ “গণহত্যায় উস্কানি এবং গণহত্যার পক্ষে” বক্তব্য দিয়েছেন—এমন গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা পুলিশকে বিষয়টি জরুরিভাবে অবহিত করছে।
অভিযোগকারী সংগঠনগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস (এসিআইজে), আল-হক এবং আল মেজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস। তারা ১০ পৃষ্ঠার একটি নথিতে হারজোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত এবং আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের অধীনে অস্ট্রেলিয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য
এসিআইজে-এর নির্বাহী পরিচালক রাওয়ান আররাফ এক বিবৃতিতে বলেন, “যেখানে বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক তথ্যে গণহত্যার উস্কানির প্রমাণ মেলে এবং যেখানে নিজের দেশে কোনো বিচার হয়নি, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা ও দায়িত্ব অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এএফপির তদন্ত ছাড়া হারজোগকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দিলে সরকার তাদের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার প্রতি ‘চরম অবজ্ঞা’ প্রদর্শন করবে।”
আল-হকের জেনারেল ডিরেক্টর শাওয়ান জাবারিন উল্লেখ করেন, হারজোগ বলেছিলেন “গাজায় কোনো সাধারণ নাগরিক যুদ্ধের বাইরে নয়”। জাবারিন বলেন, “হারজোগ এমন একটি রাষ্ট্রের প্রধান, যে রাষ্ট্র গাজায় ২৩,০০০ শিশু এবং ১,০০০ শিশুকে তাদের প্রথম জন্মদিনের আগেই হত্যা করেছে। এমনকি আইভিএফ (IVF) ক্লিনিকেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ৪,০০০ মানব ভ্রূণ এবং ভবিষ্যতের প্রাণের আশা ধ্বংস হয়ে গেছে।”
সফরের প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
‘দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি হারজোগের সিডনি সফরের কথা রয়েছে। গত মাসে বন্ডি বিচে এক ইহুদি উৎসবে বন্দুকধারীর হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ ও সংহতি জানাতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তবে এই সফরের বিরোধিতা আসছে খোদ অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশ থেকে। ‘জিউইশ কাউন্সিল অফ অস্ট্রেলিয়া’র নির্বাহী সদস্য ওহাদ কোজমিনস্কি গণমাধ্যমকে বলেন, বন্ডির ঘটনার পর হারজোগের সফর “উত্তেজনা বাড়াবে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করবে”, কারণ তিনি এমন একটি বিদেশি রাষ্ট্রের প্রধান যারা “গণহত্যা চালাচ্ছে”।
নতুন আইন ও প্রতিবাদ
বন্ডি হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট দ্রুত কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা ‘হেট স্পিচ’ বিরোধী আইন পাস করেছে। তবে জিউইশ কাউন্সিল অফ অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ইহুদিদের শোককে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার এবং নাগরিক অধিকার খর্ব না করার দাবিতে ৬০,০০০ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে।
কোজমিনস্কি বলেন, “ঘটনার এক মাস পর শোক ও নিরাময়ের পরিবেশ তৈরির বদলে আমরা দেখছি, আমাদের শোক ও ক্ষোভকে ফিলিস্তিনি, মুসলিম, অভিবাসী এবং গণহত্যাবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তড়িঘড়ি করে রাজনৈতিক সমঝোতা বা পার্লামেন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ইহুদিদের নিরাপত্তা জোরদার হবে না। বরং বর্ণবাদ ও সহিংসতা থেকে মুসলিম, ফিলিস্তিনি ও অভিবাসীসহ সকল সম্প্রদায়কে রক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!