জাপান, পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
জাপানে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র একদিন পরই তা স্থগিত করা হয়েছে   ছবি: সংগৃহীত

জাপানে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লি (রিঅ্যাক্টর) পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র একদিন পরই তা স্থগিত করা হয়েছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এটি চালু করা হচ্ছিল। তবে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাময়িক বন্ধ করা হলেও চুল্লিটি বর্তমানে ‘স্থিতিশীল’ অবস্থায় রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অপারেটর টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি হোল্ডিংস (টেপকো)—যারা বিধ্বস্ত ফুকুশিমা কেন্দ্রটিও পরিচালনা করে—এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত :
জাপানের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬ নম্বর চুল্লিটি ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর থেকে বন্ধ ছিল। গত বুধবার চুল্লির কোর থেকে নিউট্রন-শোষণকারী ‘কন্ট্রোল রড’ সরিয়ে স্থিতিশীল নিউক্লিয়ার ফিশন (পারমাণবিক বিভাজন) প্রক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে এটি পুনরায় সচল করা হয়।

কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই কন্ট্রোল রড বা নিয়ন্ত্রণ দণ্ড সংক্রান্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি স্থগিত করতে হয়। পারমাণবিক চুল্লি নিরাপদে চালু এবং বন্ধ করার জন্য এই কন্ট্রোল রডগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :
টেপকো জানিয়েছে, এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। আপাতত কার্যক্রম স্থগিত রেখে তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য চুল্লিটি আবারও শাটডাউন বা বন্ধ অবস্থায় ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে এটি ঠিক কতক্ষণ বন্ধ থাকবে, তা এখনো জানা যায়নি।

সংবাদ সংস্থা এএফপিকে টেপকোর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি বলেন, “আমরা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো তদন্ত করে দেখছি। চুল্লিটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং এর বাইরে তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রভাব পড়েনি।”

কন্ট্রোল রড কী
কন্ট্রোল রড হলো এমন একটি যন্ত্র যা চুল্লির কোরে পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়। এগুলো সামান্য তুলে নিলে বিক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়, আর গভীরে প্রবেশ করালে বিক্রিয়া ধীর হয়ে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বারবার যান্ত্রিক বিপত্তি :
মূলত গত মঙ্গলবার চুল্লিটি পুনরায় চালু করার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহের শেষ দিকে রড অপসারণ সংক্রান্ত আরেকটি কারিগরি সমস্যা ধরা পড়ায় সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। টেপকোর তথ্যমতে, রোববারের মধ্যে আগের সেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল, কিন্তু বুধবার চালু করার পর আবারও নতুন ত্রুটি দেখা দিল।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই