আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর আত্মত্যাগকে খাটো করে মন্তব্য করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (গতকাল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় তিনি এই প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, “যুক্তরাজ্যের মহান এবং অত্যন্ত সাহসী সেনারা সবসময় আমেরিকার পাশে থাকবে! আফগানিস্তানে তাদের ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা ছিলেন সর্বকালের সেরা যোদ্ধাদের অন্যতম।”
তিনি আরও বলেন, “এই বন্ধন এতটাই শক্তিশালী যে তা ভাঙা অসম্ভব। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী তাদের অদম্য হৃদয় ও আত্মা নিয়ে অদ্বিতীয় (অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের পরেই!)। আমরা তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং চিরকাল ভালোবাসব!”
বিতর্কের সূত্রপাত ও প্রতিক্রিয়া :
গত বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমাদের কখনোই তাদের (ন্যাটো) প্রয়োজন ছিল না। আমরা আসলে তাদের কাছে কিছুই চাইনি। তারা বলবে তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল... হ্যাঁ, পাঠিয়েছিল। কিন্তু তারা ফ্রন্ট লাইন বা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে একটু দূরে, একটু পেছনে থাকত।”
ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার পর জোটের অন্য সদস্যরাও আফগানিস্তানে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। দীর্ঘ ২০ বছরের সেই যুদ্ধে ন্যাটো মিত্রদের আত্মত্যাগকে ট্রাম্পের এমন তাচ্ছিল্য করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ও প্রিন্স হ্যারি। স্টারমার ট্রাম্পের মন্তব্যকে “অপমানজনক এবং সত্যিই জঘন্য” বলে অভিহিত করেন।
শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে স্টারমার বিষয়টি উত্থাপন করেন। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, দুই নেতা “সাহসী ও বীর ব্রিটিশ এবং আমেরিকান সেনাদের নিয়ে আলোচনা করেছেন যারা আফগানিস্তানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন এবং যাদের অনেকেই আর বাড়ি ফেরেননি।”
গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটো উত্তেজনা :
এই সপ্তাহটি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিকভাবে বেশ উত্তপ্ত ছিল। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি ন্যাটোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলেন। তবে শনিবারের ফোনালাপে স্টারমার ও ট্রাম্প আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
হোয়াইট হাউস শুরুতে স্টারমারের সমালোচনার জবাব দিয়ে বলেছিল, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সঠিক। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর জন্য যা করেছে, তা জোটের অন্য সব দেশ মিলে যা করেছে তার চেয়েও বেশি।”
মিত্রদের ক্ষোভ :
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও তার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আফগানিস্তানে ন্যাটো দেশগুলোর অবদানকে খাটো করা অগ্রহণযোগ্য, বিশেষ করে যখন এটি কোনো মিত্র দেশের পক্ষ থেকে আসে।”
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি, যিনি আফগানিস্তানে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন, তার মুখপাত্রের মাধ্যমে বলেছেন, ন্যাটো সেনাদের আত্মত্যাগ “সত্য এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে আলোচনা করার দাবি রাখে।”
ডেনমার্কের সেনারাও ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। যদিও ট্রাম্প শনিবারের বার্তায় ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করেছেন, তবে আফগানিস্তানে প্রাণ হারানো ন্যাটোর অন্য সদস্য দেশগুলোর সেনাদের সম্পর্কে তিনি কোনো উচ্চবাচ্য করেননি।
সূত্র : সিএনএন
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!