মিনেসোটা, মিনিয়াপলিস
মিনিয়াপলিসে রাগ আর শোকের আগুন জ্বলে উঠেছে   ছবি: সংগৃহীত

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দক্ষিণ মিনিয়াপলিসে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টদের গুলিতে নিহত হলেন ৩৪ বছরের নিবিড় পরিচর্যা নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টি — যিনি জন্মসূত্রে আমেরিকান নাগরিক। গত ৭ জানুয়ারি একই শহরে আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন আরেক আমেরিকান রেনি নিকোল গুড। দুটি ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই মিনিয়াপলিসে রাগ আর শোকের আগুন জ্বলে উঠেছে রোববার ক্যালভারি ব্যাপটিস্ট চার্চে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়নি। তার বদলে গির্জাটি হয়ে উঠেছে শোকার্ত মানুষের আশ্রয়স্থল। গরম কফি, খাবার আর হ্যান্ড ওয়ার্মার বিলি করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

চার্চের ডে-কেয়ার কর্মী অ্যান হটজ বললেন, “কাল আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আজ এসেছি শুধু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু সত্যি বলছি — যারা সাহায্য করছে, তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এটা আর সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।” চার্চ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ডিন ক্যালডওয়েল-টটজেস হুইসেল বিলি করছিলেন — যা এখন আইসিই দেখলেই বাজানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটাই এখন আমেরিকা। এটা খ্রিস্টানের কাজ — নিজের প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো।” হত্যাস্থলের কাছে সারাদিন মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। একটি পোস্টারে লাল রঙে লেখা: “STOP KILLING US” ৬৯ বছরের পেজ মিলার বললেন, “আমি প্রতিবাদ করতে করতে ক্লান্ত। কীভাবে এটা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না। কেন আমরা এটা হতে দিচ্ছি?”

ডাউনটাউনে হঠাৎ জড়ো হওয়া শত শত মানুষের স্লোগান:
“No more Minnesota nice — Minneapolis will strike!” প্রথমবার প্রতিবাদে নামা ফেলিক্স জনসন বলেন, “আমি দেখেছি একটা চার বছরের বাচ্চা মেয়েকে গাড়িতে ফেলে তার বাবাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে আইসিই। তারপর থেকে আর চুপ করে থাকতে পারিনি। এরা আমাদের নাগরিকদের পশুর মতো আচরণ করছে।”

মিনেসোটা গভর্নর টিম ওয়ালজ রোববার বলেছেন, “ট্রাম্পকে এখনই তার ৩,০০০ অপ্রশিক্ষিত এজেন্ট মিনেসোটা থেকে সরিয়ে নিতে হবে — নইলে আরেকজন আমেরিকান রাস্তায় মরবে।” হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দাবি করেছে, প্রেট্টির হাতে পিস্তল ছিল, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় কর্মকর্তা ও পরিবার বলছেন — তার হাতে ছিল মোবাইল ফোন। নিহতের বাবা-মা বলেছেন, “সরকার আমাদের ছেলেকে নিয়ে অসুস্থ মিথ্যা ছড়াচ্ছে।”

রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, “এজেন্টরা দারুণ কাজ করছে। তবে একসময় আমরা চলে যাব।” কিন্তু কবে? সে প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। আর মিনিয়াপলিসের রাস্তায় এখনো ভয় আর ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

সূত্র : বিবিসি

আরটিএনএন/এআই