মিনেসোটা, মিনিয়াপলিস, ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর সরকার মিনেসোটার পরিস্থিতি “কিছুটা শিথিল” করার পদক্ষেপ নিচ্ছে   ছবি: সংগৃহীত

মিনেসোটায় কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে পর পর দুজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক জনরোষের মুখে পিছু হটছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর সরকার মিনেসোটার পরিস্থিতি “কিছুটা শিথিল” করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত :
জানুয়ারির শুরুতে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনি গুড নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। সেই শোক না কাটতেই গত সপ্তাহে সীমান্ত রক্ষীদের হাতে নিহত হন অ্যালেক্স প্রেটি নামের আরেক মার্কিন নাগরিক। এই দুটি হত্যাকাণ্ড স্থানীয় বিক্ষোভকে নতুন করে উসকে দিয়েছে এবং সারা দেশে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘটনা দুটিকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেছেন। আইওয়ায় এক র‍্যালির আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি প্রেটির মৃত্যুকে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা” হিসেবে অভিহিত করেন। প্রেটিকে “অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী” হিসেবে অভিহিত করা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন কিছু শোনেননি, তবে যোগ করেন, “তার সাথে বন্দুক থাকা উচিত হয়নি।”

পরস্পরবিরোধী বক্তব্য : 
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম দাবি করেছেন, প্রেটি বন্দুক প্রদর্শন (brandishing) করায় তাকে গুলি করা হয়েছে এবং তাকে “সহিংসতা ছড়াতে আসা অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী” হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, প্রেটির কাছে থাকা বন্দুকটি বৈধ ছিল এবং সেটি সরিয়ে নেওয়ার পরই তাকে গুলি করা হয়। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, তার হাতে অস্ত্র নয়, বরং ফোন ছিল।

প্রশাসনিক রদবদল তদন্ত : 
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) মিনেসোটা মিশনের প্রধান গ্রেগরি বোভিনোকে সরিয়ে দেয়। তার জায়গায় পাঠানো হয়েছে হোয়াইট হাউসের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোম্যানকে। হোম্যান ইতিমধ্যেই মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়রের সাথে বৈঠক করেছেন।

হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সিএনএনকে জানান, মিনেসোটায় পাঠানো অতিরিক্ত বাহিনীকে মূলত পলাতক অপরাধী ধরার কাজে এবং নিরাপত্তা ব্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেন সেই প্রোটোকল মানা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, একজন ফেডারেল বিচারক ডিএইচএস-কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ঘটনার কোনো প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন করা না হয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া : 
রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিককেটস এবং ভারমন্টের গভর্নর ফিল স্কটসহ অনেকেই প্রেটির মৃত্যুর স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। রিককেটস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “জাতি এই সপ্তাহে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছে।”

 

সূত্র : বিবিসি

আরটিএনএন/এআই