ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি
তেহরানের ইনকেলাব-ই-ইসলামি চত্বর পেছনে দেখা যাচ্ছে মার্কিন রণতরী ও অকেজো যুদ্ধবিমানের ছবিসংবলিত একটি বিলবোর্ড, যেখানে ফার্সি ও ইংরেজিতে লেখা—"বাতাস বুনলে, তুফান কাটতে হবে"   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও জমেছে যুদ্ধের কালো মেঘ । সামগ্রিক পরিবেশ ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব থেকে সংঘর্ষের আলামত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে যেকোনো মুহুর্তে শুরু হতে পারে হামলা। এদিকে আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলে পৌঁছানোর পর উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানের পাশে দাঁড়াল তাদের একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলার জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামলাকারী যে পক্ষই হোক না কেন, রিয়াদ তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে দেবে না। তিনি সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দেন এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানান। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মার্কিন হুমকির কড়া সমালোচনা করে বলেন, এসব পদক্ষেপ কেবল অঞ্চলের অস্থিরতাই বাড়াবে। তিনি সৌদি আরবের এই দৃঢ় অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রেরআর্মাডা ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি :
ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই অঞ্চলে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরী পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার আইওয়াতে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “একটি চমৎকার আর্মাডা (রণতরী বহর) ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি তারা সমঝোতায় আসবে।”

ইরানের পাল্টা হুমকি আইআরজিসি বার্তা :
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, “প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু। কিন্তু যদি তাদের মাটি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে তাদেরও শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তাহীনতা সংক্রামক, তা কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।”

অতীতের ক্ষত ভবিষ্যৎ শঙ্কা :
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের এক দফা সংঘাত এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করুক। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের পরিচালক আলি ভায়েজ আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা “প্রায় শূন্য”। ইরানের নেতারা মনে করেন, চাপের মুখে সমঝোতা করলে চাপ আরও বাড়ে। যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ইরান মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

 

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই