জাতিসংঘ, চাঁদা পরিশোধ
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।   ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বকেয়া বার্ষিক চাঁদা এবং বিদ্যমান বাজেট কাঠামোর কারণে সংস্থার কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ সপ্তাহের শুরুতে সদস্য দেশগুলোকে পাঠানো চিঠিতে সংস্থার আর্থিক সংকটের অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি সদস্য দেশগুলোকে অনুরোধ করেছেন, সময়মতো এবং পূর্ণভাবে চাঁদা পরিশোধ করতে অথবা সংস্থার আর্থিক কাঠামো সংস্কারে সম্মত হতে। গুতেরেস সতর্ক করেছেন, চাঁদা না দিলে সংস্থার কার্যক্রম চালু রাখা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক শুক্রবার বলেন, “চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি এখনই নয়তো কখনোই নয়। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংস্থার নগদ অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।”

সংস্থার তথ্যমতে, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রধান চাঁদদাতা হিসেবে ২২ শতাংশ, চীন ২০ শতাংশ বাজেট দেয়। তবে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ মোট বকেয়া চাঁদা ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। সংস্থার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ এই বাজেটের চাঁদা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে।

মহাসচিব গুতেরেসের চিঠি এবং কার্যক্রমের সতর্কবার্তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সংস্থার অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা