মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) দাবি করেছে যে, ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথি তারা প্রকাশ করেছে। তবে আইনপ্রণেতারা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে, এই প্রকাশনা যথেষ্ট নয় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো আড়ালে রয়ে গেছে।
শনিবার পাম বন্ডি এবং টড ব্লাঞ্চের পক্ষ থেকে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের কাছে থাকা সব নথি প্রকাশ করা হয়েছে এবং ফাইলগুলোতে থাকা নামগুলোর একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে।
তবে কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি এবং এই আইনের সহ-লেখক থমাস ম্যাসি দাবি জানিয়েছেন যে, এপস্টাইন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না—সে বিষয়ে অতীতের সিদ্ধান্তের অভ্যন্তরীণ মেমো বা নথিগুলোও বিচার বিভাগকে প্রকাশ করতে হবে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন সম্পর্কিত লক্ষ লক্ষ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছিল মার্কিন বিচার বিভাগ।
চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডি এবং তার ডেপুটি ব্লাঞ্চ লিখেছেন: “আইনের প্রয়োজনীয়তা এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিচার বিভাগ তার দখলে থাকা এমন সব ‘রেকর্ড, নথি, যোগাযোগ এবং তদন্ত সামগ্রী’ প্রকাশ করেছে যা নয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরির সঙ্গে সম্পর্কিত।”
চিঠিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, “বিব্রতকর পরিস্থিতি, মানহানি বা রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার” অজুহাতে কোনো নথি গোপন রাখা হয়নি। প্রকাশিত তালিকায় এমন সব ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা “সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি” এবং যাদের নাম ফাইলগুলোতে অন্তত একবার এসেছে। ব্লাঞ্চ ও বন্ডি লিখেছেন, ফাইলগুলোতে এসব নাম “নানা প্রেক্ষাপটে” উঠে এসেছে। এর মধ্যে কারও কারও এপস্টাইন বা তার সহযোগী ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে “সরাসরি ইমেল যোগাযোগ” ছিল, আবার কাউকে হয়তো কেবল নথিতে বা সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং বিল ক্লিনটনের নাম রয়েছে—যাদের সবারই এপস্টাইন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে অতীতের সম্পর্কের নজির রয়েছে। তবে নথিতে নাম থাকা মানেই যে তারা কোনো অপরাধে যুক্ত, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই এবং প্রত্যেকেই এপস্টাইনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, এই তালিকায় প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী জেনিস জপলিন এবং এলভিস প্রিসলির নামও রয়েছে।
চিঠিটি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি ও সদস্য ডিক ডারবিন এবং হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান ও সদস্য জেমি রাসকিনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। রোববার এবিসি-র ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থমাস ম্যাসি যুক্তি দেন, যদিও বিচার বিভাগ “বলতে চাইছে যে তারা নথিপত্র প্রকাশের কাজ শেষ করেছে”, তবুও আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইল প্রকাশ করা বাকি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ “কিছু নথি প্রকাশ না করার জন্য ‘বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার বিশেষাধিকার’ (deliberative process privilege)-এর দোহাই দিচ্ছে।” ম্যাসি বলেন, “সমস্যা হলো, রো খন্না এবং আমি যে বিলটি লিখেছিলাম, তাতে বলা আছে—কাউকে অভিযুক্ত করা হবে কি হবে না, কিংবা তদন্ত করা হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তের অভ্যন্তরীণ মেমো, নোট এবং ইমেলগুলো তাদের অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে।”
চিঠির প্রতিক্রিয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি এবং ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর সহ-লেখক রো খন্না অভিযোগ করেছেন যে, কে প্রকৃত শিকারি (predator) আর কার নাম কেবল ইমেলে উল্লেখ করা হয়েছে—তা গুলিয়ে ফেলার জন্য বিচার বিভাগ “ইচ্ছাকৃতভাবে জল ঘোলা করছে।”
শনিবার ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ খন্না লিখেন, “জেনিস জপলিন, যিনি এপস্টাইনের ১৭ বছর বয়সে মারা গেছেন, তাকে এবং ল্যারি নাসের, যিনি শত শত তরুণী ও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে জেলে আছেন—উভয়কে একই তালিকায় রাখা এবং কে কীভাবে ফাইলে উল্লেখিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা না দেওয়াটা অযৌক্তিক।” তিনি আরও যোগ করেন, “পুরো ফাইল প্রকাশ করুন। শিকারিদের রক্ষা করা বন্ধ করুন। শুধুমাত্র ভুক্তভোগীদের নাম গোপন রাখুন।” এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এর আগে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলেছিলেন, এপস্টাইন সংক্রান্ত ফাইলগুলো প্রকাশের আগে যথাযথভাবে সম্পাদনা (redact) করা হয়নি। তাদের সমালোচনার পর অন্তত একটি নথি পুনরায় অসম্পাদিত অবস্থায় প্রকাশ করা হয়।
এপস্টাইনের ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, সর্বশেষ প্রকাশিত ফাইলগুলোর মধ্যে এমন কিছু ইমেল ঠিকানা ও নগ্ন ছবি ছিল, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। সে সময় বিচার বিভাগ বলেছিল, “কারিগরি বা মানবিক ভুলের” কারণে এমনটা হয়েছে এবং তারা চিহ্নিত ফাইলগুলো সরিয়ে নিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!