প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্র প্রকাশের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে "তথ্য গোপন করার" অভিযোগ তুলেছেন হিলারি ক্লিনটন। বার্লিনে বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফোরামে অংশ নেওয়া সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, "ফাইলগুলো প্রকাশ করুন। তারা ইচ্ছে করেই ধীরে কাজ করছে।" হোয়াইট হাউজ অবশ্য দাবি করেছে যে, ডেমোক্র্যাটরা ভুক্তভোগীদের জন্য যা করেছে, ফাইলগুলো প্রকাশ করে তারা তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে কংগ্রেসনাল কমিটির সামনে হাজির হওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হিলারি ক্লিনটন বলেন, "যাকেই সাক্ষ্য দিতে বলা হবে, আমার মতে প্রত্যেকেরই সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।" ফাইলে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। অ্যান্ড্রু সব সময়ই কোনো ধরনের অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টাইন সম্পর্কিত তদন্তের লাখ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করে। কংগ্রেসের পাস করা একটি আইনে এপস্টাইনের তদন্ত সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিচার বিভাগ বলছে, ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ফাইল তারা প্রকাশ করেছে। তবে আইনপ্রণেতারা বলছেন, এই প্রকাশ যথেষ্ট নয়। আইনটির অন্যতম প্রণেতা কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি দাবি করেছেন, এপস্টাইন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে অতীতে নেওয়া সিদ্ধান্তের অভ্যন্তরীণ মেমোও বিচার বিভাগকে প্রকাশ করতে হবে।
২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মারা যান এপস্টাইন। যৌন পাচারের অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় তার বিচার অপেক্ষমাণ ছিল। এর এক দশকেরও বেশি সময় আগে অপ্রাপ্তবয়স্ককে পতিতাবৃত্তিতে প্ররোচিত করার দায়ে তিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন এবং যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ওভারসাইট কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মার্কিন কর্মকর্তা এবং তাঁর প্রধান অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জুফরের পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ছে। অ্যান্ড্রু বারবার কোনো ধরনের অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ২০২২ সালে জুফরের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা করেন, যেখানে তিনি কোনো দায় স্বীকার করেননি। ২০২৫ সালে জুফরে আত্মহত্যা করেন।
ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন। বিল ক্লিনটন ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং হিলারি ক্লিনটন তার আগের দিন সাক্ষ্য দেবেন। ক্লিনটন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ার পর কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একটি ভোটাভুটি স্থগিত করা হয়। ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর এই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসনাল প্যানেলে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন।
এপস্টাইন ফাইলে বিল ক্লিনটনের নাম বেশ কয়েকবার এসেছে। ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যাওয়া এপস্টাইনের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল, তবে তিনি দাবি করেছেন দুই দশক আগেই তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকার কোনো ব্যক্তি ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি এবং দুজনেই এপস্টাইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে সেই সময় কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
ক্লিনটনরা দাবি জানিয়েছেন, শুনানি যেন রুদ্ধদ্বার না হয়ে জনসম্মুখে হয়। বিবিসিকে হিলারি ক্লিনটন বলেন, "আমরা উপস্থিত হব, তবে আমরা মনে করি এটি জনসম্মুখে হওয়াই ভালো।" রিপাবলিকান কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে "কালক্ষেপণের" অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অবমাননার ভোটের মুখে তারা "নতি স্বীকার" করেছেন।
হিলারি বলেন, "আমি চাই বিষয়টি ন্যায্য হোক। আমি চাই সবার সঙ্গে একই আচরণ করা হোক।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা বারবার এই ফাইলগুলো পুরোপুরি প্রকাশের দাবি জানিয়েছি। আমরা মনে করি সত্যের আলোই সবচেয়ে ভালো জীবাণুনাশক।"
সাবেক এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্পের দিক থেকে মনোযোগ সরাতেই তাকে এবং তার স্বামীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "দেখুন কী চমকদার বিষয়! আমরা এখন ক্লিনটনদের, এমনকি হিলারি ক্লিনটনকেও পাচ্ছি, যিনি কখনো লোকটার (এপস্টাইন) সাথে দেখাই করেননি।" হিলারি ক্লিনটন জানান, এপস্টাইনের দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার "কয়েকবার দেখা হয়েছিল"।
এপস্টাইন ফাইলে ট্রাম্পের নামও শত শত বার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে এপস্টাইনের সঙ্গে কোনো অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, কয়েক দশক আগেই তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। এপস্টাইনের কোনো ভুক্তভোগীও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ করেননি। হিলারি ক্লিনটনের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বিবিসিকে বলেন, তার লুকানোর কিছু নেই।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তিনি বলেন, "আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা কিছু একটা পাওয়ার আশায় তদন্তে নেমেছিল, কিন্তু পেয়েছে ঠিক তার উল্টোটা।"
তিনি আরও বলেন, "তাদের টেনে আনা হচ্ছে। আর এটাই তাদের সমস্যা... ক্লিনটন এবং আরও অনেক ডেমোক্র্যাটকে টেনে আনা হয়েছে।"ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগ এর আগে বলেছিল: "কিছু নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসত্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি রয়েছে, যা ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এফবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, দাবিগুলো ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। যদি সেগুলোর বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা থাকত, তবে নিশ্চয়ই এতদিনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করা হতো।"
হোয়াইট হাউজ বলেছে: "হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে, হাউস ওভারসাইট কমিটির সাবপিনা অনুরোধে সহযোগিতা করে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি এপস্টাইনের ডেমোক্র্যাট বন্ধুদের বিরুদ্ধে আরও তদন্তের আহ্বান জানিয়ে—ট্রাম্প প্রশাসন ভুক্তভোগীদের জন্য ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছে।"
সূত্র : বিবিসি
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!