ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি, ইসরায়েল
লেবাননে ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালালে ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনেক ভবন   ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ছোড়ার পর এক বৈঠকে দেশটির সেনাপ্রধান আইয়াল জাজির এই ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, "আমরা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছি।" এদিকে লেবানিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান হামলা বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর এবং দক্ষিণ লেবাননে আঘাত হেনেছে। রাজধানীর উপশহরগুলোতে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন; দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন।

উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার দায় স্বীকারের পর ইসরায়েল লেবাননে পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন আরও বিস্তৃত হলো। ইসরায়েল জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকিও দিয়েছে, যার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির সানন্দাজ শহরে ‘শত্রুপক্ষের হামলায়’ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরটি আক্রান্ত হয়েছে এবং শহরের পুলিশ স্টেশনের পাশে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী শহরের জনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এবং আল জাজিরা কর্তৃক যাচাইকৃত ফুটেজে হামলার মুহূর্তটি দেখা গেছে, যেখানে আকাশে আগুন ও বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা  যায়।

চলমান যুদ্ধের কারণে কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস আজ রাতে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে: “কুয়েতের আকাশে এখনো মিসাইল ও ড্রোন হামলার অব্যাহত হুমকি রয়েছে।” “কুয়েতে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অনুরোধ করা হচ্ছে: আপাতত যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন। হামলা হলে কী করবেন, সেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা এখনই রিভিউ করুন। আর সতর্ক থাকুন—যেকোনো মুহূর্তে আরও হামলা হতে পারে।” দূতাবাস আরও জানিয়েছে,তাদের সকল কর্মীকে এখন শেল্টার ইন প্লেস করতে বলা হয়েছে। কুয়েতের আকাশ এখনো শান্ত হয়নি। আর কেউ জানে না, পরবর্তী মিসাইলটা কখন আসবে।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই