সপ্তাহান্তে যখন দোহা, দুবাই ও মানামায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, তখন শুধু কাঁচ আর কংক্রিটই ভাঙেনি—বরং মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশের সংঘাত ও সংকট থেকে দূরে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোর তিল তিল করে গড়ে তোলা ‘স্থিতিশীলতার মরূদ্যান’ ভাবমূর্তিতেও বড় আঘাত লেগেছে।
এখন এই অঞ্চলের দেশগুলো বিশ্লেষকদের মতে এক ‘অসম্ভব সমীকরণের’ মুখোমুখি: যদি তারা পাল্টা আঘাত করে, তবে ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে; আর যদি চুপ থাকে, তবে নিজেদের শহরগুলো চোখের সামনে পুড়তে দেখতে হবে।
আবুধাবির নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অধ্যাপক মনিকা মার্কস আল জাজিরাকে বলেন, “এখানকার মানুষ ও নেতাদের জন্য মানামা, দোহা বা দুবাইয়ে বোমা পড়তে দেখাটা ঠিক ততটাই অদ্ভুত ও অকল্পনীয়, যতটা আমেরিকানদের জন্য শার্লট, সিয়াটল বা মিয়ামিতে বোমা পড়তে দেখা।” মার্কস আরও বলেন, “জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলো সপ্তাহ বা মাসজুড়ে ধীরগতিতে এই যুদ্ধ এগিয়ে আসতে দেখেছে এবং এটি থামানোর জন্য প্রচুর প্রচেষ্টা চালিয়েছে।”
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি, কাতারের দোহা এবং বাহরাইনের মানামাতে আজ সোমবার নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া জেরুজালেম শহরেও বিস্ফোরণ হয়েছে। বিভিন্ন বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও বাহরাইনের রাজধানীতে বিকট শব্দে কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে জনবহুল শহরেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান হামলা বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর এবং দক্ষিণ লেবাননে আঘাত হেনেছে। রাজধানীর উপশহরগুলোতে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন; দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার দায় স্বীকারের পর ইসরায়েল লেবাননে পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন আরও বিস্তৃত হলো। ইসরায়েল জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকিও দিয়েছে, যার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে।
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি
কুয়েতস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, দেশটির ওপর ‘অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন (ইউএভি) হামলার হুমকি’ রয়েছে। এক বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, “কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার (শেল্টার ইন প্লেস) এবং হামলার ক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তা পরিকল্পনাগুলো ঝালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও হামলার আশঙ্কায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।” বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!