ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি, ইসরায়েল
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কিছুক্ষণ পর পর শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে। এর প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং কাতারের রাজধানী দোহায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সোমবার ভোরে কুয়েতেও প্রচণ্ড শব্দ ও সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (কুনা)-র প্রতিবেদনে সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুমাইথিয়া এবং সালওয়া এলাকার কাছে অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করেছে। সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

ইরান উপসাগরীয় শহরগুলোর বিভিন্ন বেসামরিক ও বাণিজ্যিক এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন বা বিমান চলাচল এবং বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমান হামলার সতর্কতা বা এয়ার রেইড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং বাসিন্দাদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী মানামার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর সংযোগকারী শেখ খলিফা বিন সালমান ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের ‘কেবল প্রয়োজন হলেই প্রধান সড়কগুলো ব্যবহার করার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কুয়েতে অন্তত একজন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কাতারে আহত হয়েছেন ১৬ জন।

অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। আর ইসরায়েলে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১২১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরান ‘আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালাচ্ছে

রবিবার যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে অঞ্চলজুড়ে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একটি বৈঠকের পর প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলো "তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; যার মধ্যে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।"

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রবিবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো সংঘাত চায় না। তিনি বলেন, “পারস্য উপসাগরের অপর পাড়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, ইরান “তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখে” এবং তা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। আরাকচি বলেন, “আমরা যা করছি, তা মূলত আমাদের ওপর আমেরিকান আগ্রাসনের জবাবে আত্মরক্ষা ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা পারস্য উপসাগরে আমাদের ভাইদের ওপর আক্রমণ করছি না, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ করছি না; বরং আমরা আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছি।”

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই