ইরন, কুয়েত, কাতার, সৌদি, লেবানন, ইসরায়েল, আমরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধ, জাতীয়, বাংলাদেশি নিহত,
হামলায় আক্রান্ত মধ্যপ্রাচ্য।   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে একজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ। তিনি নাগরিক স্থাপনায় এয়ার ডিফেন্স এর মাধ্যমে মাঝ আকাশে ধ্বংসপ্রাপ্ত মিসাইলের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে প্রাণ হারান। অন্যদিকে, বাহরাইনে আরও একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মানামায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে।

কুয়েতে চারজন বাংলাদেশি—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রবিউল ইসলাম, কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান—ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। কুয়েত দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং দূত নিজেও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থান করছে। দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার বিষয়ে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা সতর্ক থাকেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন।

আরবিএ/আরটিএনএন