ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি, ইসরায়েল, বেলারুশ
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো   ছবি: সংগৃহীত

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো তেহরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সানেই-এর সঙ্গে এক বৈঠকে শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট ইরানের দেশের রাষ্ট্রদূতকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: এই বিরোধের মুখে আমরা যে অবস্থান নিয়েছি তা বিবেচনা করে, আমরা কীভাবে এই পরিস্থিতিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার এক মার্কিন ইউজার ক্ষোভের সাথে বলেছেন: মাত্র ৪ দিনের মধ্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার সমস্ত সামরিক ঘাঁটি হারিয়েছে। ৭০ বছর সময় নিয়েছে এগুলো নির্মাণ ও সজ্জিত করতে। সেই সাথে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে।

একটি প্রেসিডেন্টশিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী, লুকাশেঙ্কো প্রয়াত খামেনির সাথে তার "সুসম্পর্কের" কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খামেনি "কোনো সামরিক ব্যক্তি ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন মানবতাবাদী, যিনি মূলত নিজের জনগণ ও রাষ্ট্রকে রক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতেন।" ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' বলে আখ্যা দেন লুকাশেঙ্কো। তিনি বলেন, "নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।"

এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। লুকাশেঙ্কো বলেন, "উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং এই বর্বরোচিত সংঘাতের অংশীদার হতে পারে ভেবে আমি আতঙ্কিত। আমার ভয় হচ্ছে যে ঠিক এমনটাই হয়তো ঘটতে যাচ্ছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, বিশেষ করে বৃহৎ শক্তিগুলোকে এবং সবার আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, এই সংঘাত সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।" উল্লেখ্য, শনিবার থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের হামলা শুরু করার পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ প্রায় ৮০০ জন নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি ও সরঞ্জাম রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই অভিযানের সময় কুয়েতে একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস সেন্টারে (কৌশলগত অভিযান কেন্দ্র) ইরানের হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

সূত্র : আনাদালু আজানসি ও পার্স টুডে

আরটিএনএন/এআই