মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।   ছবি: বিবিসি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালানো হলেও বর্তমানে হামলার গতি কিছুটা কমে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে উভয় পক্ষের জন্যই একই মাত্রায় অস্ত্র ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের “কার্যত অফুরান ভাণ্ডার” রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। একই সময়ে ইরান ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং ১৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও এর অনেকগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও এখন সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার প্রায় ৮৬ শতাংশ কমেছে। ড্রোন হামলার সংখ্যাও প্রায় ৭৩ শতাংশ কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় দুই হাজারের বেশি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এছাড়া দেশটি হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন তৈরি করেছে, যার প্রযুক্তি রাশিয়াকেও দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া সেই ড্রোনের নিজস্ব সংস্করণ ব্যবহার করে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এখনো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত। তবে তাদের অনেক অস্ত্র অত্যন্ত উন্নত ও ব্যয়বহুল হওয়ায় উৎপাদন তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং বছরে প্রায় ৭০০টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করা সম্ভব। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই মজুতের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রশাসন অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, অস্ত্রের মজুত নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দুই পক্ষেরই হামলার মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। তবে সামরিক শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো অনেক এগিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।