ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি, ইসরায়েল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প   ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত ইরানি কূটনীতিকদের রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে ফুটবল ক্লাব 'ইন্টার মায়ামি সিএফ'-কে আতিথেয়তা দেওয়ার এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

ট্রাম্প বলেন, "আমরা বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত ইরানি কূটনীতিকদের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার এবং নতুন ও আরও উন্নত এক ইরান গড়তে আমাদের সাহায্য করার আহ্বান জানাচ্ছি।" ট্রাম্পের এই ভাষণের সময় লিওনেল মেসিসহ ইন্টার মায়ামির ফুটবলাররা তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভাষণে তিনি কিউবা ও ভেনিজুয়েলা নিয়ে চলমান নানা বিষয়েও কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি আগে ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে চান। তিনি আরও যোগ করেন, "তবে এটি কেবল সময়ের ব্যাপার, যখন আপনি এবং আরও অনেক অসাধারণ মানুষ কিউবায় ফিরে যাবেন।"ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর 'অসাধারণ ইসরায়েলি মিত্রদের' নিয়ে চালানো 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর মাধ্যমে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "তারা একটি মিসাইল ছোড়ার সাথে সাথেই, মাত্র চার মিনিটের মধ্যে তাদের লঞ্চারে (ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক যন্ত্র) আঘাত হানা হচ্ছে—তারা বুঝতেই পারছে না যে কী হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "তাদের কোনো বিমান বাহিনী নেই, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, তাদের সব উড়োজাহাজ শেষ হয়ে গেছে। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, মিসাইল, লঞ্চার—সব শেষ হয়ে গেছে। বলতে গেলে তাদের প্রায় ৬০ থেকে ৬৪ শতাংশ সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে।"

এই অভিযান "নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে এবং শত্রুকে এমনভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে, যা মানুষ এর আগে কখনও দেখেনি।" ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ৪৭ বছর ধরে "এই গোষ্ঠীর [ইরান সরকারের] ভয়াবহতা" মোকাবিলা করে আসছে।

এ সময় ট্রাম্প ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনারা শুধু খামোখাই মারা পড়বেন। এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়... আপনাদের দেশ পুনরুদ্ধারে সাহায্য করুন।"

ইরান সরকার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে—এমন উদ্বেগের মাঝে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে তার প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার মাঝেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছিল বলে জানান ট্রাম্প। তবে তিনি আরও যোগ করেন যে, তেলের দামের ওপর চাপ কমাতে অবিলম্বে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্রাম্প বলেন, "তারা ফোন করে বলছে, 'আমরা কীভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি?' আমি বলেছি, আপনাদের একটু দেরি হয়ে গেছে।" ট্রাম্পের এই ভাষণের পর বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরান যদি মনে করে যে যুক্তরাষ্ট্র চলমান এই যুদ্ধ চালিয়ে নিতে পারবে না, তবে তারা বড় ভুল করছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন তো সবেমাত্র যুদ্ধ শুরু করেছে।

ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সদর দপ্তরে পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, "ইরান আশা করছে যে আমরা এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারব না। কিন্তু এটি তাদের অত্যন্ত বাজে একটি হিসাবের ভুল (মিসক্যালকুলেশন)।"

ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেছিলেন যে, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে। এর প্রেক্ষিতে হেগসেথ স্পষ্ট করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে তাদের সামরিক লক্ষ্য বা পরিধি বাড়াচ্ছে না। হেগসেথ বলেন, "আমাদের লক্ষ্যের কোনো সম্প্রসারণ হচ্ছে না। আমরা ঠিক কী অর্জন করতে চাই, তা আমরা খুব ভালো করেই জানি।"

সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট

আরটিএনএন/এআই