ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, আলী লারিজানি
ইরানের সেনা প্রদান আমির হাতামি   ছবি: সংগৃহীত

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আলী লারিজানি এবং তার সঙ্গীদের হত্যার জবাবে তাদের মিসাইলগুলো ইসরায়েলের "হৃদপিণ্ডে ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে"। ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের "বহুস্তরবিশিষ্ট এবং অতি-উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা" ধসে পড়ায় এই স্থানগুলোতে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। এই "প্রতিশোধমূলক" হামলায় খোররমশহর-৪, কদর, ইমাদ এবং খাইবারশেকান মিসাইল ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।

আমরা আগেই জানিয়েছি, ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে তেল আবিব জেলার রামাত গানে গোলার আঘাতে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন। সপ্তাহব্যাপী চলা এই সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ না থাকায়, এবং গত রাতে দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সম্পদ এবং ইসরায়েলের ওপর হামলা জোরদার করেছে ইরান।

আধা-সরকারি ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস উল্লেখ করেছে, আইআরজিসি তেল আবিব এবং মধ্য ইসরায়েলে ড্রোন ও মিসাইল যোগে সম্মিলিত হামলা চালিয়েছে। বুধবার ভোরে ইসরায়েলি জরুরি সেবা বিভাগ তেল আবিবের কাছে দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ইরান বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক ড্রোন ছুড়েছে। এর ফলে সেখানে সাইরেন বেজে ওঠে এবং কূটনৈতিক কম্পাউন্ডের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি অস্ট্রেলিয়ান বিমান ঘাঁটির কাছেও তেহরান একটি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান লারিজানি এবং আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ শক্তিশালী মিলিশিয়া বাহিনীর নেতা গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হওয়ার পরই এই ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ লারিজানি, তার ছেলে মোর্তেজা লারিজানি, তার অফিসের প্রধান আলিরেজা বায়াত এবং বেশ কয়েকজন দেহরক্ষীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল পুনরায় চালু করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিত্র দেশগুলোর সামরিক সহায়তা চাইছেন। ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তেহরান জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মতে, এতে কেন্দ্রের কোনো ক্ষতি বা কর্মীদের কেউ আহত হননি। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ বাধার জবাবে মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি মিসাইল সাইটগুলোতে ৫,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা নিক্ষেপ করেছে। অঞ্চলের চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার রিয়াদে সৌদি আরবের আয়োজনে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি পরামর্শমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : সিএনবিসি

আরটিএনএন/এআই