যুক্তরাষ্ট্র, ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে) ও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি (ডানে)।   ছবি: বিবিসি বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রস্তাবটি পাকিস্তান-এর মাধ্যমে তেহরান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং হরমুজ প্রণালী-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সৈয়দ আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছে, উভয় পক্ষ সম্মত হলে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে তারা প্রস্তুত।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন।

তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর” মাধ্যমে বার্তা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে।

বিমান হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি ব্যবহারে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার ও বিমান চলাচলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ দফার এই প্রস্তাব সংঘাত নিরসনে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ খুলে দিলেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইরানের সম্মতি, ইসরায়েলের অবস্থান এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতির ওপর। ফলে যুদ্ধের মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সূত্র: আনাদোলু