যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় চলছে, তবে কোনো সংলাপ নয়: আরাগচি, ইরান, আরাগচি, যুক্তরাষ্ট্র, আমেরিকা, ইসরায়েল, যুদ্ধ, তেল, তেল সংকট, জ্বালানি, জ্বালানি সংকট, তেহরান, হরমুজ, হরমুজ প্রণালী,
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়েছে— প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবি সঠিক নয়। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিল— এমন পরিস্থিতিতে তারা এখন কেন আলোচনার কথা বলছে, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নীতি হলো প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা এবং কোনো ধরনের সংলাপে যাওয়ার ইচ্ছা তাদের নেই। তার ভাষায়, এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি এবং তাদের অবস্থান নৈতিকভাবে সঠিক।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২৪ মার্চ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটও জানান, ইরান যদি শান্তি চুক্তিতে না আসে, তাহলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং অগ্রগতি সন্তোষজনক।

তবে আরাগচি এসব বক্তব্য নাকচ করে বলেন, যুদ্ধ চলাকালে আলোচনায় আগ্রহ দেখানো মানে পরাজয় মেনে নেওয়া। যারা আলোচনার কথা বলছে, তারা মূলত নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রাম্পের পাঠানো ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছেছে এবং সেটি পর্যালোচনা করছে তেহরান। বিভিন্ন মিত্র দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় হচ্ছে, তবে এটিকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বলা যাবে না।

সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে, তবে এই সংঘাতের মধ্য দিয়েই তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তার মতে, ইরান এমন এক নিরাপত্তা অবস্থান তৈরি করেছে, যা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে— দেশটির স্বার্থে হস্তক্ষেপের ফল গুরুতর হতে পারে।

আরবিএ/আরটিএনএন