কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বজুড়ে যেমন কৌতূহল, তেমনি আছে সংশয়ও। হলিউড সিনেমার প্রভাব কিংবা প্রযুক্তিভীতির কারণে অনেকেই এখনো এআইকে ‘খলনায়ক’ হিসেবেই দেখেন। অথচ বাস্তবতা হলো—প্রযুক্তিটি দ্রুত আমাদের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষেত্র ও সৃজনশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে অস্বীকার করে দূরে ঠেলে না দিয়ে বরং বোঝা ও কাজে লাগানোর সময় এখনই।
এই বার্তাই দিচ্ছেন তুর্কি-কানাডীয় কনটেন্ট নির্মাতা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা পেনার সেহান ডেমেরডা (Pinar Seyhan Demirdag)। পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইন (LinkedIn)–এ ২০২৫ সালে প্রকাশিত জনপ্রিয় কোর্সগুলোর মধ্যে অন্যতম তাঁর তৈরি হোয়াট ইজ জেনারেটিভ এআই ? (What Is Generative AI?)। ইতিমধ্যে ২৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন।
ডেমেরডাগ কেবল প্রশিক্ষক নন; তিনি জেনারেটিভ এআই-নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কিউবেরিক এআই (Cuebric AI)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। নিজেও একজন ডিজিটাল শিল্পী। এআই নিয়ে তাঁরও একসময় সংশয় ছিল-প্রযুক্তিটি শিল্পীদের কর্মসংস্থান কমিয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল প্রবল। কিন্তু অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি দেখেছেন, সঠিক ব্যবহার জানলে এআই সৃজনশীলতাকে আরও শাণিত করতে পারে।
কেন করবেন এই কোর্স
অনেকেই এআই বলতে কেবল চ্যাটবট-যেমন চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি-বোঝেন। আবার কারও ধারণা, এআই মানেই চাকরি হারানোর আশঙ্কা। এই কোর্স সেই ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সহায়তা করে। এখানে দেখানো হয়, এআই কেবল কথোপকথনের টুল নয়; গবেষণা, কনটেন্ট তৈরি, নকশা, বিশ্লেষণ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
প্রযুক্তিভীতিকে কাটিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে জেনারেটিভ এআই বোঝার জন্য কোর্সটি বিশেষভাবে উপযোগী। যারা একেবারেই নতুন, কিংবা এআই নিয়ে দ্বিধায় আছেন-তাদের জন্য এটি সহজ ভাষায় তৈরি একটি প্রাথমিক গাইড।
কী আছে কোর্সে
মাত্র এক ঘণ্টার এই কোর্সে সূচনা ও উপসংহারসহ রয়েছে পাঁচটি অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে কুইজ রয়েছে, যা উত্তীর্ণ হলে অংশ নেওয়া যায় চূড়ান্ত পরীক্ষায়। পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ নম্বর পেলে পাওয়া যায় ন্যাশনাল এ্যাসোসিয়েশন অফ এস্টেট বোর্ডস অফ একাডেমি (N. A. S. B. A) (এনএএসবিএ) স্বীকৃত পেশাদার সনদ, যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
কোর্সের শুরুতে এআইয়ের ধরন, মেশিন লার্নিং, জেনারেটিভ এআই কীভাবে কাজ করে—এসব বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পরবর্তী অংশে রয়েছে জেনারেটিভ এআইয়ের উৎপত্তি, তাত্ত্বিক ভিত্তি, বহুমুখী প্রয়োগ এবং নৈতিক ব্যবহারের দিকনির্দেশনা। সংক্ষেপে, জেনারেটিভ এআইয়ের আদ্যোপান্ত ধারণা পাওয়া যায় এখানে।
কারা করবেন
এই কোর্স করার জন্য কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করা বা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি নয়। এআই নিয়ে যাদের ন্যূনতম কৌতূহল আছে, মনে প্রশ্ন বা সংশয় আছে—তাদের সবার জন্যই কোর্সটি উন্মুক্ত। বরং কোর্স শেষে মেশিন লার্নিং, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয় সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, কোর্সটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ফলে আগ্রহ থাকলেই যে কেউ শুরু করতে পারেন জেনারেটিভ এআই শেখার এই যাত্রা। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে এটি হতে পারে একটি কার্যকর প্রথম পদক্ষেপ।
আরবিএ/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!