প্রতিদিন এই ৫টি ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে সুস্থ থাকবে অন্ত্র
প্রতিদিন এই ৫টি ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে সুস্থ থাকবে অন্ত্র   ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ অন্ত্র মানেই শুধু হজম ঠিক থাকে তাই নয়, এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অন্ত্রকে অনেক সময় ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কারণ অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে রয়েছে সরাসরি সংযোগ। তাই খাদ্যাভ্যাসে আঁশ বা ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখা এখন সময়োপযোগী এবং স্বাস্থ্যকর। এনডিটিভি

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, নিয়মিত ফাইবার গ্রহণ করলে কেবল অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় না, এটি মেটাবলিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। তার মতে, খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট আঁশযুক্ত খাবার রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, কোলন ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

হালকা কাঁচা কলা
ডা. শেঠি বলেন, হালকা কাঁচা কলা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে সমৃদ্ধ। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টি জোগায় এবং হজম প্রক্রিয়া ধীরে চালায়। পাশাপাশি, কলা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন একটি মাঝারি আকারের কাঁচা কলা খাওয়া উচিত।

চিয়া সিড
চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় আঁশ থাকে। এই আঁশ অন্ত্রে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে, যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়ক হয়। এছাড়াও দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডা. শেঠি বলেন, দই বা স্মুদির সঙ্গে প্রতিদিন ১–২ টেবিল চামচ চিয়া সিড খাওয়া স্বাস্থ্যকর।

ডাল ও শিমজাতীয় খাবার
মসুর ডাল, ছোলা, রাজমা ইত্যাদিতে রয়েছে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশ। এগুলো অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের জন্য উপকারী। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিন আধা থেকে এক কাপ সেদ্ধ ডাল বা শিমজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।

বেরি জাতীয় ফল
ব্লুবেরি, রাস্পবেরি সহ অন্যান্য বেরি ফল আঁশ ও পলিফেনলে সমৃদ্ধ। এগুলোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। ডা. শেঠি বলেন, প্রতিদিন আধা থেকে এক কাপ বেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস অন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক।

বাদাম
আখরোট ও কাঠবাদাম শুধু আঁশ নয়, বরং স্বাস্থ্যকর চর্বিতেও সমৃদ্ধ। এগুলো অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করে এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খাওয়া অন্ত্র সুস্থ রাখতে কার্যকর।

ডা. শেঠি আরও বলেন, খাদ্যতালিকায় নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, মলত্যাগ স্বাভাবিক থাকে, প্রদাহ কমে এবং প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এটি হজমজনিত নানা সমস্যাও প্রতিরোধ করে।

তাই সুস্থ অন্ত্র ও সুস্থ জীবনের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করে, যা সরাসরি সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলে।